সোমবার (৬ এপ্রিল ২০২৬) সকালে এশিয়ার বাজারে লেনদেন শুরু হতেই অপরিশোধিত ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১.৬% বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১১০.৮৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে তেলের দাম ০.৮% বেড়ে ১১২.৪০ ডলারে পৌঁছেছে। মূলত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট এবং ইরানের কঠোর পাল্টা হুঁশিয়ারির ফলেই এই অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ অত্যন্ত অশালীন ও কড়া ভাষায় ট্রাম্প লিখেছেন, আগামী মঙ্গলবার হবে ইরানের ‘বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতু দিবস’। তিনি সরাসরি হুমকি দিয়ে বলেন:
“ওই অভিশপ্ত প্রণালি খুলে দাও… নইলে নরকে বাস করতে হবে—দেখে নিও! আল্লাহর কাছে দোয়া করো।”
ট্রাম্প আরও স্পষ্ট করেছেন যে, মঙ্গলবার রাত ৮টার (ইস্টার্ন টাইম) মধ্যে হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত না হলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিদ্যুৎ অবকাঠামো ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় সরাসরি হামলা চালাবে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ফক্স নিউজকে জানিয়েছেন, সোমবার একটি চুক্তি হওয়ার ‘ভালো সম্ভাবনা’ রয়েছে। তবে যদি দ্রুত সমঝোতা না হয়, তবে তিনি ‘সবকিছু উড়িয়ে দিয়ে তেলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার’ বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছেন। তাঁর এই মারমুখী অবস্থান বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের ধসের আশঙ্কা তৈরি করেছে।
ট্রাম্পের এই অশালীন ও সরাসরি যুদ্ধের হুমকির প্রেক্ষিতে ইরানও হাত গুটিয়ে বসে নেই। তেহরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যেকোনো মার্কিন আগ্রাসনের বিরুদ্ধে তারা ‘আরও বিধ্বংসী প্রতিশোধ’ নিতে প্রস্তুত। হরমুজ প্রণালি বন্ধ রাখা তাদের সার্বভৌম অধিকার এবং সার্বভৌমত্বে আঘাত এলে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে বলে সতর্ক করেছে ইরান।
হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের মোট তেলের এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয়। এই পথটি রুদ্ধ থাকায় এবং ট্রাম্পের যুদ্ধংদেহী মনোভাবের কারণে ভারত, চীন ও জাপানের মতো আমদানিনির্ভর দেশগুলো চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছে। তেলের এই মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব সরাসরি পরিবহন ও খাদ্যপণ্যের ওপর পড়তে শুরু করেছে।
একনজরে বর্তমান তেলের বাজার (৬ এপ্রিল ২০২৬):
ব্রেন্ট ক্রুড: ১১০.৮৫ ডলার (বৃদ্ধি ১.৬%)।
ইউএস ক্রুড: ১১২.৪০ ডলার (বৃদ্ধি ০.৮%)।
ডেডলাইন: মঙ্গলবার রাত ৮টা (যুক্তরাষ্ট্র সময়)।

