ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সৌদি আরব সফর শেষ করে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান জানিয়েছেন, বাংলাদেশের প্রার্থিতার পক্ষে ইসলামী সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি)-র সদস্য দেশগুলো বিশ্বজুড়ে সক্রিয় প্রচার চালাবে।
মন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশের প্রার্থিতার বিষয়ে ওআইসির দেশগুলো থেকে আমরা পূর্ণ এবং দ্ব্যর্থহীন সমর্থন পেয়েছি। তারা কেবল ভোটের প্রতিশ্রুতি দেয়নি, বরং ঢাকার পক্ষে বিশ্বজুড়ে প্রচারণাও চালাবে।”
ড. রহমান বলেন, “সরকার পরিবর্তনের পর আমাদের প্রার্থী পরিবর্তন হয়েছে। সাইপ্রাস সারাবছর প্রচার চালিয়েছে, অথচ আমাদের হাতে সময় মাত্র তিন মাস বা তারও কম। এটি আমাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।” তিনি আরও জানান, ওআইসির সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা ও কৌশল নির্ধারণ করা হয়েছে, এবং সাড়া অত্যন্ত উৎসাহব্যঞ্জক।
ফিলিস্তিন কিছুদিন আগে তাদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করায়, ২০২৬-২০২৭ মেয়াদের এই পদের মূল প্রতিদ্বন্দ্বী এখন শুধু সাইপ্রাস।
এর আগে অন্তর্বর্তী সরকার সাবেক পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেনকে প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করেছিল। সরকার পরিবর্তনের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই পদে ড. খলিলুর রহমানকে প্রার্থী করেন।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচন আগামী ২ জুন নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত হবে। আঞ্চলিক পালাক্রম অনুযায়ী সভাপতি নির্বাচিত হবেন এশিয়া-প্যাসিফিক গ্রুপ থেকে। ৮১তম অধিবেশন শুরু হবে ৮ সেপ্টেম্বর এবং উচ্চপর্যায়ের সাধারণ বিতর্ক শুরু হবে ২২ সেপ্টেম্বর।
ড. রহমান আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যকার উত্তেজনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “যুদ্ধ কারও জন্যই সুফল বয়ে আনে না। বাংলাদেশ সতর্কতার সঙ্গে বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছে এবং এখনই কোন প্রকাশ্য বিবৃতি দেবে না।”
ফিলিস্তিন ইস্যুতে বাংলাদেশের অবস্থান আগের মতোই স্থির থাকবে বলে তিনি পুনরুল্লেখ করেন।
ওআইসির সাম্প্রতিক নির্বাহী সভায় নেতারা বাংলাদেশের প্রার্থী পদের প্রতি আস্থা প্রকাশ করে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে বলে মন্তব্য করেন এবং জাতিসংঘ নির্বাচনে পূর্ণ সমর্থনের আশ্বাস দেন।

