মো: এ কে নোমান, নওগাঁ প্রতিনিধি :
নওগাঁর পোরশা উপজেলায় ছুটির দিনে গোপনে সরকারি বই বিক্রির চেষ্টার অভিযোগে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের এক কর্মচারীর বিরুদ্ধে গুরুতর অনিয়মের ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। শিক্ষার্থীদের মাঝে বিনামূল্যে বিতরণের জন্য বরাদ্দকৃত বই বিক্রির সময় স্থানীয়দের তৎপরতায় প্রায় ৭০০ কেজি বই জব্দ করা হয়, যা নিয়ে এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে উপজেলার নিতপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজ গেট এলাকায় একটি অটোরিকশা থেকে এসব বই আটক করা হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের অফিস সহকারী আমানত আলীর যোগসাজশে বইগুলো বিক্রি করা হচ্ছিল। জব্দকৃত বইগুলো চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার নাচোল উপজেলার বাসিন্দা তাইফুর আলীর কাছে বিক্রি করা হয়েছিল বলে জানা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ছুটির সুযোগে একটি অটোরিকশা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে প্রবেশ করে এবং সেখান থেকে বিপুল পরিমাণ সরকারি বই বোঝাই করে বের হয়। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে স্থানীয়রা নিতপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজ গেটে অটোরিকশাটি আটক করেন। পরে অটোরিকশা চালককে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি স্বীকার করেন যে, তিনি অফিস সহকারী আমানত আলীর কাছ থেকে বইগুলো নিয়ে যাচ্ছিলেন এবং নির্ধারিত ভাড়ার বিনিময়ে পরিবহন করছিলেন।
পরে স্থানীয়দের সহায়তায় জব্দকৃত বই ও অটোরিকশা চালককে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে ঘটনার সময় অভিযুক্ত বিক্রেতা আমানত আলী ও ক্রেতা তাইফুর আলী কেউই ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না; বিষয়টি জানাজানি হলে তারা সরে পড়েন বলে জানা গেছে।
জানা যায়, জব্দ হওয়া বইগুলোর আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১৫ হাজার টাকা। টেন্ডার প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে সরকারি সম্পদ বিক্রির এই ঘটনায় স্থানীয় জনমনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষার্থী ও সচেতন মহল এ ধরনের অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত আমানত আলী পূর্বে পিয়ন পদে কর্মরত থাকলেও পরে অফিস সহকারী হিসেবে পদোন্নতি পান। বিভিন্ন সময় তার বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি এবং ঘুষ ছাড়া কাজ না করার অভিযোগ রয়েছে বলেও দাবি করেছেন অনেকে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে আমানত আলী বলেন, “একজনের অনুরোধে বইগুলো দিয়েছিলাম। পরিস্কার করার জন্য নেওয়া হচ্ছিল। আমি কোনো টাকা নিইনি। তবে এটি আমার ভুল হয়েছে।” তিনি অন্যান্য অভিযোগ অস্বীকার করে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন।
এ বিষয়ে সাপাহার উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এবং পোরশার অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শামসুল কবীর জানান, তিনি ছুটিতে থাকাকালীন বিষয়টি জানতে পারেন। আমানত আলী তাকে জানিয়েছেন, বইগুলো পুরনো এবং গুদাম পরিষ্কারের জন্য সরানো হচ্ছিল। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “বই পুরনো হলেও যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কোনোভাবেই তা বিক্রি করা বৈধ নয়। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পোরশা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাকিবুল ইসলাম জানান, জব্দকৃত বইগুলো তার হেফাজতে রয়েছে এবং অটোরিকশা চালকের জবানবন্দি নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “ঘটনার সময় শিক্ষা অফিসের কোনো দায়িত্বশীল কর্মকর্তাকে পাওয়া যায়নি। আমরা বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করব। সংশ্লিষ্ট বিভাগ পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
এ ঘটনায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে তদন্ত ও জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতির কথা জানানো হয়েছে।

