সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার শ্রীউলা ইউনিয়নের গাজীপুর দিঘীর ধার সংলগ্ন সরস্বতী মন্দিরে পূজা উপলক্ষে আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অশ্লীল নৃত্য প্রদর্শনের অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (২৪ জানুয়ারি) দিবাগত রাতে সংঘটিত এই ঘটনাটি স্থানীয় সামাজিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের ওপর চরম আঘাত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাত আনুমানিক ১০টায় অনুষ্ঠানের শুভ উদ্বোধন করেন সাতক্ষীরা-০৩ আসনের বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী কাজী আলাউদ্দীন। অভিযোগ উঠেছে, প্রধান অতিথির উপস্থিতিতেই অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে অশ্লীল নৃত্য পরিবেশন করা হয়। পুরো আয়োজনটির তত্ত্বাবধানে ছিলেন শ্রীউলা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রফিকুজ্জামান ছোট্টু এবং ব্যবস্থাপনায় ছিলেন ইউপি সদস্য ও বিএনপি নেতা কামরুল হুদা মিলন।
গাজীপুর মুন লাইট যুব সংঘের ব্যানারে এই সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। গভীর রাত (২টা ৩০ মিনিট) পর্যন্ত চলা এই অনুষ্ঠানে সুস্থ সংস্কৃতির পরিবর্তে কুরুচিপূর্ণ ও অশ্লীল নৃত্য পরিবেশিত হওয়ায় উপস্থিত অনেক সাধারণ মানুষ ও ধর্মপ্রাণ ব্যক্তি ক্ষোভ প্রকাশ করে অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেন।
ধর্মীয় উৎসবের মঞ্চে এ ধরনের আয়োজনকে ‘ভয়াবহ নৈতিক অবক্ষয়’ হিসেবে দেখছেন সচেতন সমাজ। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, শিশু-কিশোরদের উপস্থিতিতে এ ধরনের দৃশ্য উপস্থাপন ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য মারাত্মক হুমকি। যেখানে রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃত্বের দায়িত্ব ছিল ধর্মীয় শালীনতা বজায় রাখা, সেখানে তাঁদের পৃষ্ঠপোষকতায় এমন ঘটনার অবতারণা দায়িত্বশীলতার মানদণ্ডকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।
এলাকাবাসীর প্রশ্ন—একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানে এ ধরনের অশ্লীলতা চলার পরও কেন তা তাৎক্ষণিক বন্ধ করা হলো না? আয়োজক হিসেবে রফিকুজ্জামান ছোট্টু, কামরুল হুদা মিলন এবং প্রধান অতিথি কাজী আলাউদ্দীন এই ঘটনার দায় কোনোভাবেই এড়াতে পারেন না বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শ্রীউলা ইউনিয়নসহ আশাশুনির বিভিন্ন মহলে নিন্দার ঝড় বইছে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক নেতাদের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক দুঃখপ্রকাশ বা ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। প্রশাসনের নীরবতা নিয়েও জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। সুস্থ সাংস্কৃতিক চর্চা ও ধর্মীয় মর্যাদা রক্ষায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

