সাবেক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এবং সেতু ও বিদ্যুৎ বিভাগের সাবেক সিনিয়র সচিবসহ সরকারের ১৫ জন উচ্চপদস্থ ব্যক্তির দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি, ২০২৬) দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. সাব্বির ফয়েজ এই আদেশ দেন।
সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. রিয়াজ হোসেন গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
যাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে:
ওবায়দুল কাদের ছাড়াও নিষেধাজ্ঞার তালিকায় থাকা ১৪ জন সাবেক সচিব ও শীর্ষ কর্মকর্তা হলেন: ১. খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম (সাবেক সিনিয়র সচিব, সেতু বিভাগ) ২. মো. নজরুল ইসলাম (সাবেক সচিব, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ) ৩. মোস্তাফা কামাল উদ্দীন (সাবেক সচিব, জননিরাপত্তা বিভাগ) ৪. আহমদ কায়কাউস (সাবেক সচিব, বিদ্যুৎ বিভাগ) ৫. মো. আবদুল জলিল (সাবেক সচিব, ভূমি মন্ত্রণালয়) ৬. জাফর আহমেদ খান (সাবেক সচিব, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়) ৭. মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরী (সাবেক অর্থ সচিব ও সিএএজি) ৮. মোহাম্মদ শহিদুল হক (সাবেক সিনিয়র সচিব, লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ) ৯. জুয়েনা আজিজ (সাবেক সচিব ও এসডিজি মুখ্য সমন্বয়ক) ১০. মো. মোফাজ্জেল হোসেন (সাবেক সচিব, রেলপথ মন্ত্রণালয়) ১১. কাজী শফিকুল আযম (সাবেক সিনিয়র সচিব, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ) ১২. আখতার হোসেন ভূঁইয়া (সাবেক সচিব, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়) ১৩. আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম (সাবেক সচিব ও এনবিআর চেয়ারম্যান)।
দুদকের সহকারী পরিচালক খোরশেদ আলম আদালতে এই আবেদন করেন। আবেদনে বলা হয়, আসামিরা ক্ষমতার অপব্যবহার করে সেতু কর্তৃপক্ষের আইন লঙ্ঘন করে সরকারি জমিতে ব্যক্তিস্বার্থে ফ্ল্যাট নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদন করেছেন। এই নীতিবহির্ভূত কর্মকাণ্ডের ফলে সরকারের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে, যা নিয়ে বর্তমানে তদন্ত চলছে।
তদন্তকালে দুদক জানতে পেরেছে যে, অভিযুক্তরা সপরিবার দেশ ছেড়ে পালানোর চেষ্টা করছেন। তদন্ত কার্যক্রম নির্বিঘ্ন করতে এবং মামলার সুষ্ঠু সমাপ্তির লক্ষ্যে তাদের বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া একান্ত প্রয়োজন বলে মনে করে আদালত এই আদেশ দেন।

