নিরাপত্তা শঙ্কায় থাকা ২০ জন রাজনৈতিক ব্যক্তিকে গানম্যান দেওয়ার সিন্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। সোমবার দুপুরে সচিবালয়ে আইন-শৃঙ্খলা সংক্রান্ত কমিটির বৈঠক শেষে ব্রিফিংয়ে একথা জানান স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। ২০ জনের এই তালিকায় গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরের নাম থাকলেও সরকারের দেয়া গানম্যান প্রত্যাখ্যান করেছেন ভিপি নুরুল হক নুর।
সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ(ডাকসু) ভবনের সামনে ডাকসু হামলার ৬বছর উপলক্ষ্যে এক প্রতিবাদ সভায় যোগ দিয়ে তিনি একথা বলেন। নুরুল হক নুর বলেন, যেই সরকারের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জনসম্মুখে পোশাক পরিহিত অবস্থায় নিজ কার্যালয়ের সামনে হামলা করেছে সেই হামলাকারীদের বিচার না হওয়া পর্যন্ত সরকারের দেওয়া গানম্যান আমি প্রত্যাখ্যান করছি। বক্তব্যে নুরুল হক নুর বলেন, একক ব্যক্তিকে গানম্যান দিয়ে গোটা দেশকে নিরাপদ করা সম্ভব নয়। জনগণের নিরাপত্তায় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ঢেলে সাজাতে হবে। শুধু নির্বাচনের প্রার্থীদের নিরাপত্তা দিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা সম্ভব নয়। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি না হলে ও নিরাপদ ভোটের পরিবেশ তৈরি না হলে ভোটাররা ভোট কেন্দ্রে যাবেনা।
পুলিশ ও সেনাবাহিনীর দুর্বৃত্তরা পোশাক পরিহিত অবস্থায় চলতি বছরের ২৯ আগস্ট জনসম্মুখে হামলা চালিয়েছিল উল্লেখ করে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর বলেন, ৩০ (ত্রিশ) কার্যদিবসের মধ্যে এই হামলার ঘটনা তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করতে চলতি বছরের ৪ সেপ্টেম্বর বিচার বিভাগীয় কমিটি গঠন করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হলেও এখন পর্যন্ত এই হামলায় জড়িতদের চিহ্নিত ও বিচার করা হয়নি। এতে বোঝা যায় সেদিনের হামলার ঘটনায় অন্তর্বর্তী সরকারের মৌন সমর্থন রয়েছে। এই ঘটনার জন্য সরকারের দায় রয়েছে জানিয়ে নুর বলেন, হামলার ঘটনার বিচার না হওয়ায় প্রধান উপদেষ্টাসহ বাকি উপদেষ্টাদেরও আমি দায়ি করবো। তাই গানম্যান প্রত্যাখ্যান করে নিজের উপর কোন ধরনের হামলা হলে তার দায় বর্তমান উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যদের নিতে হবে বলে কড়া হুশিয়ারী উচ্চারণ করেন ডাকসু সাবেক ভিপি ও গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর।

