সত্যজিৎ দাস (মৌলভীবাজার প্রতিনিধি ):
মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মা ও প্রসূতি সেবায় ইতিবাচক পরিবর্তনের নজির তৈরি হয়েছে। স্বল্প স্বাস্থ্যকর্মীদের সচেতনতা ও সমন্বিত উদ্যোগে এখানে স্বাভাবিক প্রসবের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে,কমেছে সিজারিয়ান অপারেশনের সংখ্যা।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে,২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে এখানে সিজারিয়ান ডেলিভারি হয়েছিল ১০টি। তবে চলতি ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত স্বাভাবিক প্রসবের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী; জানুয়ারি মাসে সিজারিয়ান হয়েছে ৮টি এবং স্বাভাবিক প্রসব হয়েছে ২১১টি। ফেব্রুয়ারি মাসে সিজারিয়ান ৭টি,স্বাভাবিক প্রসব ২০৯টি,মার্চ মাসে সিজারিয়ান ৬টি এবং স্বাভাবিক প্রসব হয়েছে ১৯৮টি।
গত প্রায় দেড় মাসে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে প্রায় ১৯৮টি শিশু স্বাভাবিক প্রসবের মাধ্যমে জন্ম নিয়েছে। প্রসূতি মা ও নবজাতক সবাই সুস্থ আছেন এবং কোনো জটিলতার মুখোমুখি হতে হয়নি বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
এ সময় প্রসূতি ওয়ার্ডে কর্তব্যরত নার্স, মিডওয়াইফ ও স্বেচ্ছাসেবীরা প্রসব প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাদের সমন্বিত সহযোগিতার ফলে নিরাপদ ও স্বাভাবিক প্রসব নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে।
প্রসূতি বিভাগে দায়িত্ব পালনরত মিডওয়াইফ মহাবুবা বলেন,“গর্ভবতী মায়েদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং প্রসবের আগে মানসিকভাবে প্রস্তুত করার কারণে হাসপাতালে স্বাভাবিক প্রসবের হার বেড়েছে। আমরা তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে কাজ করি এবং স্বাভাবিক প্রসবের জন্য উৎসাহিত করি।
সিনিয়র স্টাফ নার্স হাসিনা আক্তার বলেন, “প্রসূতি মায়েদের নিরাপদ সেবা নিশ্চিত করতে আমরা সব সময় সতর্ক থাকি। স্বাভাবিক প্রসবের সময় মা ও শিশুর সার্বিক অবস্থার উপর নজর রাখা হয়। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টার কারণেই এখানে স্বাভাবিক প্রসবের সংখ্যা বাড়ছে এবং মায়েরা নিরাপদ সেবা পাচ্ছেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সিনথিয়া তাসমিন বলেন,“আমাদের মিডওয়াইফরা হাসপাতালে আসা প্রতিটি প্রসূতির শারীরিক পরীক্ষার পাশাপাশি তাদের মানসিকভাবে প্রস্তুত করে তোলেন। স্বাভাবিক প্রসবের বিষয়ে তাদের উৎসাহ দেওয়া হয়। এ কারণে হাসপাতালে স্বাভাবিক প্রসবের হার বেড়েছে। এই ধারা অব্যাহত থাকলে উপজেলা পর্যায়ে অপ্রয়োজনীয় সিজারিয়ান ডেলিভারি অনেকাংশে কমে যাবে।

