দিল্লির সঙ্গে কোনো ধরনের গোপন বৈঠক মেনে নেওয়া হবে না বলে স্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছেন ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবের। শুক্রবার (২ জানুয়ারি) রাজধানীর শাহবাগ চত্বরে আয়োজিত এক অবস্থান কর্মসূচিতে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।
শহীদ শরীফ ওসমান হাদির হত্যার বিচারের দাবিতে তৃতীয়বারের মতো শাহবাগ মোড় অবরোধ করে ইনকিলাব মঞ্চ। এদিন জুমার নামাজের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন সংগঠনটির নেতাকর্মীরা। মিছিলটি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে শাহবাগ মোড়ে গিয়ে পৌঁছালে সেখানে অবস্থান কর্মসূচি শুরু হয়।
অবরোধ কর্মসূচিতে বক্তব্যে আবদুল্লাহ আল জাবের রাজনৈতিক দলগুলোর উদ্দেশে বলেন, কোনো রাজনৈতিক পক্ষ যদি বৈঠকে বসে, তাহলে সেটি অবশ্যই জনগণের সামনে প্রকাশ্যভাবে হতে হবে। গোপনে কোনো সিদ্ধান্ত বা আলোচনা চলতে দেওয়া হবে না। বিশেষ করে দিল্লির সঙ্গে কোনো ধরনের ‘সিক্রেট বৈঠক’ ইনকিলাব মঞ্চ মেনে নেবে না বলে তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।
তিনি বলেন, “বাংলাদেশের তিন দিক থেকেই ভারতীয় আধিপত্যবাদ বিদ্যমান। এই বাস্তবতা থেকেই আমরা ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে কথা বলছি। একইভাবে যুক্তরাষ্ট্র যদি বাংলাদেশে আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করে, সেক্ষেত্রেও আমরা তার বিরোধিতা করব।”
আবদুল্লাহ আল জাবের আরও বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব কোনো শক্তির কাছে তুলে দেওয়া হবে না। দেশের জনগণের স্বার্থবিরোধী কোনো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হলে ইনকিলাব মঞ্চ তা প্রতিহত করবে।
বক্তব্যে শহীদ শরীফ ওসমান হাদির আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, ওসমান হাদি তাদের আন্দোলনের অনুপ্রেরণা ও পথপ্রদর্শক। তার আত্মত্যাগ বৃথা যেতে দেওয়া হবে না। তার দেখানো পথ অনুসরণ করেই ইনকিলাব মঞ্চ ভবিষ্যতের আন্দোলন চালিয়ে যাবে বলে অঙ্গীকার করেন তিনি।
তিনি বলেন, “এই আন্দোলন এখানেই শেষ নয়। এটি মাত্র শুরু। বাংলাদেশের বিরুদ্ধে যেকোনো ধরনের আধিপত্যবাদী আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ইনকিলাব মঞ্চের লড়াই অব্যাহত থাকবে।”
অবরোধ কর্মসূচি চলাকালে শাহবাগ এলাকায় যান চলাচল ব্যাহত হয় এবং সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পরিস্থিতি শান্ত রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে ছিল।

