কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার সীমান্তে কিশোরী ফেলানীর হত্যাকাণ্ডের প্রায় দেড় দশক পর তার ছোট ভাই আরফান হোসেন যোগ দিয়েছেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-তে। বুধবার চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার বিজিবি ট্রেনিং সেন্টার অ্যান্ড কলেজ-এ ১০৪তম রিক্রুট ব্যাচের প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ ও শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে তিনি শপথ নেন।
শপথের দিনই আরফান বলেন, “যেভাবে আমার বোনকে সীমান্তে গুলি করে হত্যা করা হয়েছিল, সেই স্মৃতি আজও আমাকে তাড়িয়ে বেড়ায়। আমি চাই না, আমার বোনের মতো আর কোনো বোনকে সীমান্তে গুলি করে হত্যা করা হোক। কোনো বাবা-মা যেন এভাবে তাদের সন্তান হারান—এটাই আমার অঙ্গীকার।”
আরফান জানান, হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই তার এবং পরিবারের একটাই স্বপ্ন ছিল—তিনি বিজিবিতে যোগ দেবেন। চার মাসের কঠোর প্রশিক্ষণ শেষে তিনি সেই স্বপ্ন পূরণ করেছেন। তিনি আরও প্রতিজ্ঞা করেছেন, “নিজের জীবন বিপন্ন হলেও সীমান্তে দায়িত্ব পালনে পিছপা হব না। যেন কেউ আমার বোনের মতো গুলিতে নিহত না হয়।”
উল্লেখ্য, ফেলানী হত্যাকাণ্ড বাংলাদেশের ইতিহাসে সীমান্তে বেসামরিক নাগরিক হত্যার প্রতীকী ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত। সম্প্রতি ঢাকার গুলশানে কূটনৈতিক এলাকা-র একটি সড়কের নামকরণ করা হয়েছে ‘ফেলানী এভিনিউ’, যা ঘটনার স্মৃতিকে রাষ্ট্রীয়ভাবে শ্রদ্ধা জানানোর উদ্যোগ।

