নাজমুল হোসেন, প্রতিনিধি ঠাকুরগাঁও:
বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, জীবন দিয়েছে বিগত সরকারের আমলে অত্যাচারিত হয়েছে- নির্যাতিত হয়েছে। তাদের এই মূল্যায়ন কখনো বৃথা দিতে দেওয়া যাবে না। এবং এবারে নির্বাচন শুধু দেশের জন্য প্রতিনিধি নির্বাচন করা নির্বাচন নয়। এবারের নির্বাচন হবে আমাদের দেশকে পূর্ণ গঠনের নির্বাচন। গত এক যুগ ধরে বাংলাদেশের মানুষ তাদের রাজনৈতিক অধিকার প্রয়োগ করতে পারেনি। তারা কথা বলার স্বাধীনতা পায়নি। একইভাবে বাংলাদেশের মানুষ তাদের অর্থনৈতিক অধিকার থেকে অনেকটা পিছিয়ে গেছে।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারী) দুপুরে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় (বড় মাঠ) মাঠে জেলা বিএনপির আয়োজনে নির্বাচনী গণ সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।তিনি বলেন, দেশের যুবক তরুণের যেভাবে কর্মসংস্থান তৈরির ব্যবস্থা করার কথা ছিল সেভাবে ব্যবস্থা হয়নি। দেশের মা-বোনদেরকেও সেভাবে মূল্যায়ন করা হয়নি। দেশের কৃষকদের যেভাবে অর্থনৈতিকভাবে সহযোগিতা করা কথা ছিল সেভাবে তাদেরকে সহায়তা করা হয়নি বিগত স্বৈরাচার সরকার। আজ সময় এসেছে আমরা ১২ তারিখের নির্বাচনে যেমন প্রতিনিধি নির্বাচিত করব সেভাবে আমরা দেশপূর্ণ গঠনের কাজ করব।
তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের অর্ধেকই হচ্ছে নারী, এই নারীকে যদি আমরা আমাদের কর্মের সঙ্গে সম্পৃক্ত না করতে পারি তাহলে কোনভাবে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব না। আপনার দেখেছেন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া যখন দেশ পরিচালনা দায়িত্বে ছিলেন তখন বাংলাদেশের মেয়েদের শিক্ষা ব্যবস্থা বিনামূল্যে চালু করেছিলেন। আজ বাংলাদেশের হাজার লক্ষ কোটি নারী শিক্ষায় আলোকিত হয়েছে। এই নারীদের আমরা অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে চাই। এবং সেজন্যই আমরা চাই বাংলাদেশের প্রত্যেকটি ঘরে ঘরে গৃহিণী যারা আছেন তাদের কাছে ফ্যামিলি কার্ড আমরা পৌঁছে দিতে চাই। এই ফ্যামিলি কার্ডের অধিকারী হবে এই দেশের মায়েরা। এই ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে আমরা প্রত্যেকটি নারী কাছে সহযোগিতা পৌঁছে দিতে চায় যাতে তারা সহজে সংসার পরিচালনা করতে পারে। এই ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমেই আমাদের দেশে নারীরা আস্তে আস্তে সাবলম্বী হয়ে উঠবে। আমরা শুধু নারীদের নয়, কৃষক ভাইদেরও আমরা সহযোগিতা করতে চাই।কৃষক ভাইদেরকে আমরা কৃষি কার্ড পৌঁছে দিতে চাই যে কার্ডের মাধ্যমে কৃষক ভাইরা সহজে ঋণ গ্রহণ করতে পারবে। এই কার্ডের মাধ্যমেই আমরা সহজেই কৃষক ভাইদের কাছে তাদের প্রয়োজনীয় সার বীজ পৌঁছে দিতে চাই।
বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, বাংলাদেশের মানুষ ১২ তারিখের নির্বাচনে ধানের শীষকে নির্বাচিত করলে সারা বাংলাদেশে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত যে কৃষি ঋণ রয়েছে সেই দশ হাজার টাকার কৃষকের কৃষি ঋণ আমরা মৌকুফ করতে চাই। শুধু তাই নয়, যে সমস্ত মানুষ রেজিস্টারকৃত এনজিও থেকে ক্ষুদ্র ঋণ নিয়েছে জেলে, কৃষক, শ্রমিক তাদের ঋণ আমরা সরকারের পক্ষ থেকে পরিশোধ করে দিব। যাতে করে এই এই ঋণের বোঝা থেকে সাধারণ মানুষ রক্ষা পেতে পারে।
তিনি আরও বলেন, উত্তরাঞ্চল ঠাকুরগাঁ দিনাজপুর পঞ্চগড় হলো কৃষি প্রধান এলাকা। আমরা চাই এলাকার মানুষের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হোক আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, কৃষকদের পাশে যেমন আমরা দাঁড়াবো ঠিক তেমনিভাবে এই এলাকায় কৃষি নির্ভর শিল্প ও কৃষির সঙ্গে সম্পর্কিত প্রজেক্ট গুলো এই এলাকায় নিয়ে এসে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে দেব।
তারেক রহমান বলেন, প্রতিবছর শীতে আসতাম এই এলাকায়। দুঃস্থদের কাছে গরম কাপড় নিয়ে হাজির হতাম। নির্বাচনে মানুষ ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেনি একযুগ। ১২ তারিখ সেই অধিকার তারা প্রয়োগ করবেন। দেশকে সামনে এগিয়ে নিতে চাই। আন্দোলন সংগ্রাম করেছি, এখন মানুষকে সঙ্গে নিয়ে দেশকে পুনর্গঠন করতে হবে। খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করতে চাই। এই কাজ করতে দেশের মালিক জনগণের সহযোগিতা প্রয়োজন। পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হলে ধানের শীষে ভোট দিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, পঞ্চগড় এবং ঠাকুরগাঁওয়ে চা কারখানা এবং শিল্প কারখানা চালু করতে চাই। ঠাকুরগাঁওয়ে ক্যাডেট কলেজের দাবি বাস্তবায়নে চেষ্টা করব। হিমাগার তৈরি করা হবে। যুবকদের জন্য আইটি পার্ক বা হাব গড়ে তোলা হবে। ঠাকুরগাঁওয়ে মেডিকেল কলেজ এবং পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় করার বিষয় আমরা দেখবো।
বিএনপি ক্ষমতায় গেলে ঠাকুরগাঁওয়ে বিমানবন্দর চালু করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তারেক রহমান বলেন, এক যুগ তারা নিজেদের স্বার্থ দেখেছে। ফলে মানুষ চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে হেলথ কেয়ার নিযুক্ত করা হবে। এসব কাজের জন্য ধানের শীষকে ভোট দিতে হবে।
তিনি বলেন, নির্বাচনের মাঠে এক দল অন্য দলের বিপক্ষে কথা বলে। কিন্তু অন্য দলের বিপক্ষে কথা বললে, জনগণের কোনো লাভ হবে না। মানুষ তাদের জন্য কী করব, সেটা জানতে চায়। আমরা জনগণের জন্য পরিকল্পনার কথা বলছি। জনগণকেই সকল ক্ষমতার উৎস মনে করে বিএনপি।
তারেক রহমান বলেন, যেই বাংলাদেশে মা-বোনেরা নিরাপদে চলাচল করতে পারবে, তরুণরা বেকার থাকবে না, সবাই চিকিৎসা পাবে- এমন বাংলাদেশ গড়তে চাই। দেশ স্বাধীন করেছি, চব্বিশে স্বাধীনতা রক্ষা করেছি। এখন গণতন্ত্র মজবুত করতে হবে, দেশ পুনর্গঠন করতে হবে।ধর্ম দিয়ে কোনো বিচার করা হবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, যোগ্যতা দিয়ে বিচার করা হবে। ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে নিয়েই বাংলাদেশকে গড়তে হবে। ধানের শীষের প্রার্থী বিজয়ী হলে তাদের দায়িত্ব হবে জনগণকে দেখে রাখা।

