শাহজাহান আলী মনন, নীলফামারী জেলা প্রতিনিধি:
নীলফামারী সদর উপজেলার ইটাখোলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হেদায়েত আলী শাহ ফকিরকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।৷ তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নীলফামারী জেলা পর্যায়ের নেতা এবং জেলা কৃষক লীগের সহসভাপতি ছিলেন। হত্যা ও নাশকতা মামলার পলাতক আসামি হিসেবে দীর্ঘদিন পলাতক ছিলেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে তিনি বিএনপিতে যোগ দেন। নীলফামারী-২ সদর আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও তারেক রহমানের খালাতো ভাই প্রকৌশলী শাহরিন ইসলাম তুহিনের হাতে ফুলের তোড়া দিয়ে তার এই যোগদানের ঘটনা ব্যাপকভাবে ভাইরাল হয়। তুমুল সমালোচনার সৃষ্টি হয় জেলা জুড়ে। মামলা থেকে বাঁচতে বিএনপিতে যোগ দিলেও রেহাই মিললোনা তাঁর।
স্থানীয় সূত্র ও মামলার নথি অনুযায়ী, হেদায়েত আলী শাহ সাবেক সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নুরের ঘনিষ্ঠ সহচর হিসেবে পরিচিত ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি প্রকাশ্যে বিরোধী দলীয় এজেন্টদের ওপর হামলা চালিয়ে ভোটকেন্দ্র থেকে বের করে দেন এবং কেন্দ্রজুড়ে নৌকা প্রতীকে সিল মারার উৎসব শুরু করেন।
এছাড়া চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে এলাকার বহু সাধারণ মানুষের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ আত্মসাৎ করার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। ২০১৩ সালের ১৪ ডিসেম্বর নীলফামারী সদরের রামগঞ্জ বাজার এলাকায় সংঘটিত বহুল আলোচিত ও ভয়াবহ ‘রামগঞ্জ ট্রাজেডি’ হত্যাকাণ্ডেও হেদায়েত আলী শাহ ফকির প্রত্যক্ষ সহযোগী ছিলেন বলে এজাহারে উল্লেখ রয়েছে। ওই ঘটনায় অসংখ্য নিরপরাধ মানুষকে আসামি করে বছরের পর বছর জেল, রিমান্ড ও নির্যাতনের শিকার হতে হয়। অনেকেই বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে থাকতে বাধ্য হন।
২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ৪ আগস্ট ছাত্র-জনতার ওপর হামলা, অগ্নিসংযোগ ও লুটতরাজের ঘটনায়ও তিনি সরাসরি জড়িত ছিলেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। ওইদিন জেলা শহরের বিভিন্ন বাসাবাড়ি, রাজনৈতিক কার্যালয় ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ব্যাপক সহিংসতা চালানো হয়। তার বিরুদ্ধে নীলফামারী সদর থানায় জিআর-৩২০/২৪, জিআর-২৬৯/২৪ ও জিআর-২৬৭/২৪ মামলা রয়েছে। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে আরও একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

