রাজধানীর আদাবর ও মোহাম্মদপুর এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্যে স্থানীয় বাসিন্দারা চাঁদাবাজি, হামলা ও নানা ধরনের সন্ত্রাসে ভুগছেন। এ কারণে অনেক পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগে বাসস্থান ছেড়ে যেতে বাধ্য হচ্ছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গ্যাং সদস্যরা ভাড়াটে ঘর মালিকদের কাছ থেকে মাসে কয়েক হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে। টাকা না দিলে হামলার শিকার হতে হয়। সম্প্রতি দিনমজুর আবদুল জলিল (ছদ্মনাম) জানান, প্রতি মাসে ৫ হাজার টাকা চাঁদা না দেওয়ায় তাঁকে মারধর করা হয় এবং পুনরায় হুমকি দেওয়া হয়। শেষ পর্যন্ত পরিবারের নিরাপত্তার কথা ভেবে তিনি ভাড়া বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছেন।
শুধু জলিলই নন, এলাকাবাসীর অনেকেই একই অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন। তাদের অভিযোগ, গ্যাং সদস্যরা ছিনতাই, অপহরণ, চাঁদাবাজি, জমি দখল, মাদক বিক্রি, এমনকি নারীদেরও উত্ত্যক্ত করছে। গ্যাং সদস্যরা ভীতিকর পোশাক ও চুলের স্টাইল করে চলাফেরা করে এবং প্রায়ই দেশি অস্ত্র নিয়ে ঝগড়া-বিবাদে জড়ায়।
র্যাব-২ এর কমান্ডিং অফিসার খালিদুল হক হাওলাদার গণমাধ্যমকে জানান, গত ৫ আগস্ট থেকে এখন পর্যন্ত আদাবর ও মোহাম্মদপুর এলাকায় ৮৮৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এদের অধিকাংশ কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে জড়িত। অন্তত ২০টি গ্রুপ শনাক্ত করা হয়েছে, যার মধ্যে কয়েকটি গ্যাংয়ে ৬০ জন পর্যন্ত সদস্য রয়েছে। তবে জামিনে ছাড়া পেয়ে এরা আবারও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে।
পুলিশ সূত্র বলছে, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও প্রমাণের অভাবে আসামিরা সহজেই জামিন পেয়ে যায়। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দাবি করেছে, তারা প্রমাণসহ আসামিদের হাজির করছে।
ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের উপ-কমিশনার ইবনে মিজান জানিয়েছেন, এসব গ্যাংয়ের সদস্যরা মূলত ভাসমান এবং স্থায়ী ঠিকানা না থাকায় তাদের খুঁজে বের করা কঠিন হয়ে পড়ে। তবে সবাইকে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।
সম্প্রতি সুনিবিড় হাউজিং এলাকায় পুলিশের ওপর গ্যাং সদস্যদের হামলার ঘটনায় পুলিশ সদস্য আহত হন। পরে অভিযান চালিয়ে ১০২ জনকে আটক করা হয় এবং দেশি অস্ত্র ও মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।

