শাহরিয়ার কবির,
খুলনার পাইকগাছায় বহুল আলোচিত শ্রীলেখা সানা হত্যা মামলায় অবশেষে তদন্তে নতুন মোড় এসেছে। দীর্ঘ প্রায় তিন মাসের অনুসন্ধান শেষে পুলিশ দুইজন সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করেছে এবং তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে। এ অগ্রগতিতে এলাকায় নতুন করে আলোচনা-উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ১০ এপ্রিল উপজেলার সোলাদানা ইউনিয়নের পশ্চিম দীঘা গ্রামের বাসিন্দা সম্ভু সানা (৬৫) ও সঞ্জয় সানা (৪৫)কে সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, নিহত শ্রীলেখা সানার পরিবারের সঙ্গে সম্ভু সানার পরিবারের দীর্ঘদিন ধরে জমি ও চলাচলের পথ নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা ধারণা করছেন,এই বিরোধ থেকেই হত্যাকাণ্ডের সূত্রপাত হতে পারে।
এর আগে মামলার রহস্য উদঘাটনে নিহতের দেবর প্রসেন সানা ও তার স্ত্রী বিজলী, তাদের ছেলে হিরক সানা এবং পুত্রবধূ রাখি সানাকে একাধিকবার থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তবে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদেও হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে উল্লেখযোগ্য কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি বলে জানা গেছে। এতে করে তদন্ত এক পর্যায়ে স্থবির হয়ে পড়লেও পুলিশ বিকল্প সূত্র ধরে অনুসন্ধান চালিয়ে যায়।
নৃশংস এ হত্যাকাণ্ডের ক্লু উদ্ধারে থানা পুলিশের পাশাপাশি পিবিআই ও সিআইডির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ ও স্থানীয় তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের মাধ্যমে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হয় বলে জানা গেছে। সর্বশেষ এসব তথ্যের ভিত্তিতেই সন্দেহভাজন দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আজিজুর রহমান জানান, দীর্ঘ তদন্তের পর সংগৃহীত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে সম্ভু সানা ও সঞ্জয় সানাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে তদন্তের স্বার্থে এ মুহূর্তে বিস্তারিত কিছু জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেন তিনি। অপরদিকে পাইকগাছা থানার ওসি গোলাম কিবরিয়া জানান, গ্রেফতারকৃত আসামিদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে এবং তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে। বর্তমানে তারা জেল-হাজতে রয়েছেন।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি গভীর রাতে কোনো এক সময়ে পশ্চিম দীঘা গ্রামের বাসিন্দা মৃত ফণীন্দ্র নাথ সানার স্ত্রী শ্রীলেখা সানাকে নিজ বাড়ির রান্নাঘরে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। ঘটনার সময় তিনি বাড়িতে একাই ছিলেন। পরদিন সকালে স্বজনরা দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করলে রান্নাঘরে রক্তাক্ত অবস্থায় তার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
পরে ২৩ জানুয়ারি নিহতের একমাত্র ছেলে গোবিন্দ সানা অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে পাইকগাছা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। তবে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন না হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ বাড়ছিল।
সর্বশেষ গ্রেফতার ও রিমান্ড আবেদনের মধ্য দিয়ে মামলাটি নতুন গতি পেলেও এখনো মূল রহস্য পুরোপুরি উন্মোচিত হয়নি। তদন্ত সংশ্লিষ্টদের আশা, রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে, যা এ নৃশংস হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও জড়িতদের চিহ্নিত করতে সহায়ক হবে।

