আমেরিকার সামনে নতুন কৌশলগত জটিলতা হাজির হয়েছে। মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ গড়ে উঠছে ফ্রি মার্কেট, ফ্রি ইকোনোমি এবং ফ্রিডম অব নেভিগেশনের উপর ভিত্তি করে। এগুলোর বাই প্রোডাক্ট হিসেবে আরও যত ফ্রিডমের কথা আমরা শুনি, সেগুলো আসছে।
ইউরোপিয়ান সাম্রাজ্যবাদ গড়ে উঠছিল কলোনিয়ালিজম আর এক্সক্লুসিভ মার্কেটের উপর ভিত্তি করে।
অর্থাৎ যে যেই অঞ্চল দখল করবে, সেই অঞ্চল সে শোষণ করবে। সেখানকার বাজারে নিজের পণ্য বিক্রি করবে।
ইউরোপিয়ান সাম্রাজ্যগুলোর উত্থানপতন ঘটছে মূলত সমুদ্রযুদ্ধে জয়-পরাজয়ের মধ্য দিয়ে। যে সাগর নিয়ন্ত্রণ করত, সে পৃথিবী নিয়ন্ত্রণ করত।
ঠিক এই কারণেই প্রথম বিশ্বযুদ্ধের অন্যতম প্রধান একটা কারণ ছিল বৃটিশ রয়াল নেভির আদলে জার্মানির রয়াল নেভি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা। স্পেন, পর্তুগাল, ডাচ-সবার পতন হইছে সাগরে দখল হারানোর ফলে।
কিন্তু আমেরিকা যেহেতু অনেক পরে আসছে, তাই সে এসে দেখে দখল করার মত আর তেমন কিছুই বাকি নাই।
ফলে তার নীতি হয় ‘দখলমুক্তকরণ’। অর্থাৎ অন্যের কবল থেকে মুক্তি না পাইলে আমার সেখানে প্রবেশাধিকার নাই।
একারণে সমস্ত ফ্রিডমের ঝুলি নিয়ে আমেরিকার উত্থান। স্পেশালি সমুদ্রবাণিজ্যে। বিগত কয়েশ বছরের রীতিনীতি পালটে দিয়ে আমেরিকা ফ্রিডম অব নেভিগেশনের কট্টর সমর্থক ও প্রচারক হয়ে যায়। ফলে ফ্রিডম অব নেভিগেশনের মৃত্যু একচুয়েলি মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের প্রধান প্রতীকের মৃত্যু!
হরমুজকে কার্যকরভাবে বন্ধ করে দেওয়ার মাধ্যমে ইরান যা করে দেখাইছে। একারণে লিন্ডসে গ্রাহাম থেকে শুরু করে অন্যান্য উগ্রপন্থীরা ট্রাম্পকে বারবার সতর্ক করতেছে যে হরমুজ বন্ধ করে ইরান যে ভয়ঙ্কর অপরাধ করছে, সেই অপরাধের সাজা পাইতে হবে। পুরষ্কার নয়।
যদি হরমুজের উপর ইরানের সার্বভৌমত্ব স্বীকার করে নেওয়া হয়, কিংবা টোল তোলার অনুমতি প্রদান করা হয়, তাহলে সেটা হবে আমেরিকান সাম্রাজ্যবাদের মূল কাণ্ডে কুঠারাঘাত করার বিনিময়ে প্রদত্ত পুরষ্কার।
আবার ওদিকে ইরানও বুঝে গেছে তার হাতে হাজার খানেক নিউক থাকলেও সে সারা দুনিয়াকে এইভাবে ঝাঁকুনি দিতে পারবে না, যেইভাবে পারবে হরমুজ নিয়ন্ত্রণে থাকলে।
ফলে নিউকের দাবি, এমনকি ইউরেনিয়াম এনরিচমেন্টের দাবি ছেড়ে দিয়ে হলেও হরমুজে দখল ধরে রাখার চেষ্টা করবে। নেগোসিয়েশন নানা দিক থেকেই জটিল আকার ধারণ করছে।

