সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামোর (পে-স্কেল) রূপরেখা চূড়ান্ত করেছে পে-কমিশন। আগামীকাল ২১ জানুয়ারি প্রতিবেদনটি প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হবে। কমিশন সূত্রে জানা গেছে, প্রস্তাবিত কাঠামোতে জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয় বিবেচনা করে বেতন দ্বিগুণেরও বেশি বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে।
সর্বনিম্ন মূল বেতন: বর্তমানের ৮,২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০,০০০ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে (২০তম গ্রেড)। এটি প্রায় ১৪৪ শতাংশ বৃদ্ধি। ভাতা মিলিয়ে এই গ্রেডের একজন কর্মচারীর মোট বেতন হতে পারে প্রায় ৪২ হাজার টাকা।
সর্বোচ্চ মূল বেতন: সচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের মূল বেতন ৭৮,০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১,৬০,০০০ টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে। ভাতা ও অন্যান্য সুবিধাসহ একজন সচিবের মোট মাসিক আয় ৩ লাখ টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে।
গ্রেড কাঠামো: বর্তমানের ২০টি গ্রেড অপরিবর্তিত রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে, অর্থাৎ কাঠামোগত কোনো বড় পরিবর্তন আসছে না।
বর্তমানে ১৫ লাখ সরকারি কর্মচারীর বেতন-ভাতার পেছনে সরকারের বার্ষিক ব্যয় প্রায় ৮৫ হাজার কোটি টাকা। কমিশনের এই সুপারিশ পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়িত হলে সরকারের অতিরিক্ত এক লাখ কোটি টাকা ব্যয়ের বোঝা তৈরি হবে।
এ বিষয়ে টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “এত বড় ব্যয়ভার বহন করার জন্য রাষ্ট্র বা জনগণ প্রস্তুত কি না, সেটি গভীরভাবে মূল্যায়ন করা দরকার।” বিশ্লেষকরাও সরকারের বর্তমান আর্থিক সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
২০১৫ সালের পর দীর্ঘ ১০ বছর পর এই নতুন পে-স্কেল আসতে যাচ্ছে। অন্তর্বর্তী সরকার গত জুলাইয়ে এই কমিশন গঠন করেছিল। যদিও অর্থ মন্ত্রণালয় সংশোধিত বাজেটে এ খাতে অতিরিক্ত ২০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রেখেছে, তবে পুরো সুপারিশ বাস্তবায়ন নিয়ে সরকার এখনো পর্যালোচনার পর্যায়ে রয়েছে।
আগামীকাল প্রধান উপদেষ্টার কাছে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা আসে কি না, সেদিকেই তাকিয়ে আছেন প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীরা।

