ঈদ সামনে রেখে বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংকগুলোর চাহিদা অনুযায়ী নতুন নোট সরবরাহ করলেও অনেক গ্রাহক অভিযোগ করছেন, বিভিন্ন ব্যাংক শাখায় গিয়ে তারা নতুন নোট পাচ্ছেন না। কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিশেষ কাউন্টার চালু না করায় এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রতিবছর ঈদের আগে বাংলাদেশ ব্যাংক-এর মতিঝিলসহ বিভিন্ন শাখা অফিস এবং বাণিজ্যিক ব্যাংকের শাখাগুলোতে নতুন নোট বিনিময়ের জন্য বিশেষ কাউন্টার খোলা হতো। তবে সম্প্রতি কেন্দ্রীয় ব্যাংক গ্রাহক পর্যায়ে নগদ বিনিময়, সঞ্চয়পত্র বিক্রি ও প্রাইজবন্ড বিক্রিসহ সব ধরনের সরাসরি সেবা বন্ধ করে দিয়েছে। ফলে এবার আর বিশেষ কাউন্টারের মাধ্যমে নতুন নোট বিতরণ করা হচ্ছে না।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান বলেন, ব্যাংকগুলোর চাহিদা অনুযায়ী প্রতিদিনই নতুন নোট সরবরাহ করা হচ্ছে এবং এ ক্ষেত্রে কোনো ঘাটতি নেই। তবে আগের মতো আলাদা কাউন্টার খুলে গ্রাহকদের কাছে নতুন নোট বিনিময় করা হচ্ছে না।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, প্রতিটি বাণিজ্যিক ব্যাংকের সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের চলতি হিসাব থাকে, যার মাধ্যমে নিয়মিত টাকা জমা ও উত্তোলন করা হয়। ঈদসহ উৎসবের সময়ে নগদ টাকার চাহিদা বেড়ে গেলে ব্যাংকগুলো বেশি পরিমাণে নতুন ছাপানো নোট নেয়। সাধারণত ছেঁড়াফাটা বা অচল নোটের পরিবর্তে এসব নতুন নোট বাজারে ছাড়া হয়।
তবে অভিযোগ উঠেছে, তদারকি না থাকায় অনেক ব্যাংকার নিজেদের পছন্দের গ্রাহক বিশেষ করে করপোরেট গ্রাহক, আত্মীয়স্বজন বা পরিচিতদের মধ্যে নতুন নোট বেশি বিতরণ করছেন। ফলে সাধারণ গ্রাহকরা ব্যাংকে গিয়ে প্রায়ই শুনছেন, নতুন নোট বিনিময় করা হচ্ছে না।
অন্যদিকে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ফুটপাতে নতুন নোট বিক্রি হতে দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে বাংলাদেশ ব্যাংকের আশপাশ ও গুলিস্তান এলাকায় চড়া দামে এসব নোট বিক্রি হচ্ছে। ১০০ পিসের একটি বান্ডেল কিনতে অতিরিক্ত ১৫০ থেকে ৪৫০ টাকা পর্যন্ত দিতে হচ্ছে। ঢাকার বাইরেও একই ধরনের বেচাকেনা চলছে বলে জানা গেছে। এতে প্রশ্ন উঠেছে ব্যাংকে না পাওয়া গেলেও এসব নতুন নোট বিক্রেতাদের হাতে কীভাবে পৌঁছাচ্ছে।
এদিকে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর শেখ মুজিবুর রহমান-এর ছবি থাকা পুরোনো নোটের পাশাপাশি নতুন ডিজাইনের নোট চালুর সিদ্ধান্ত নেয়। নতুন ডিজাইনের মধ্যে ২০০, ১০ ও ৫ টাকার নোটে জুলাই আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থীদের আঁকা গ্রাফিতি স্থান পেয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন নোটে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপত্যের নিদর্শনও যুক্ত করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, একটি নোটের ডিজাইন চূড়ান্ত করতে কয়েক দফা বৈঠক হয়। এরপর প্রিন্টিং প্লেট তৈরি, কাগজ ও কালি আমদানির জন্য নিলাম প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়। নিরাপত্তা সুতা, জলছাপসহ বিভিন্ন নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য নির্ধারণ করে বিদেশে কাগজ তৈরি করা হয় এবং পরীক্ষার জন্য তা বাংলাদেশ ব্যাংকে পাঠানো হয়।

