বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারপারসন তারেক রহমান দীর্ঘ ১৭ বছর নির্বাসনে কাটানোর পর গত বছরের বড়দিনে দেশে ফেরেন। এর মাত্র সাত সপ্তাহের মাথায় তিনি দেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন।
বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে ২০৯টিতে জয় পেয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। শুক্রবার পর্যন্ত প্রাপ্ত ফলাফলে এ চিত্র পাওয়া গেছে। জানুয়ারির শুরুতে Time magazine-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তারেক রহমান দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার এবং সামাজিক বিভাজন দূর করার পরিকল্পনা তুলে ধরেন।
আইনের শাসন ও জাতীয় ঐক্য অগ্রাধিকার
প্রথম অগ্রাধিকার হিসেবে তিনি আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার কথা উল্লেখ করেন। পাশাপাশি আর্থিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, প্রতিশোধ নয় ঐক্যের মাধ্যমেই দেশকে এগিয়ে নিতে হবে।
সহিংসতার ক্ষত নিরাময়ের চ্যালেঞ্জ
২০২৪ সালের জুলাইয়ে ক্ষমতাচ্যুত হন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সহিংসতায় বহু হতাহতের ঘটনা এবং গুমের অভিযোগে দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে গভীর ক্ষত তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর জনগণের আস্থা পুনর্গঠন বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
অর্থনীতিতে সংস্কারের পরিকল্পনা
অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ফেরাতে বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা জানিয়েছেন তারেক রহমান। উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সংকট এবং বেকারত্ব মোকাবিলায় তিনি ব্যাংকিং খাত সংস্কার, ডিজিটাল অর্থনীতির সম্প্রসারণ এবং দক্ষ জনশক্তি তৈরি করার ওপর জোর দেন।
নারী ও বেকারদের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক পুনর্গঠন
ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের ওপর গুরুত্ব দেন বিএনপি প্রধান। তিনি ভারতের সঙ্গে বিদ্যমান চুক্তিগুলো পুনর্মূল্যায়নের কথা বলেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য সম্প্রসারণে আগ্রহ প্রকাশ করেন।
এদিকে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস-এর সময়কালের নীতিনির্ধারণ নিয়েও আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনা রয়েছে।
ইসলামপন্থী রাজনীতি ও ভারসাম্য
নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আসন পেলেও বিএনপির একক সংখ্যাগরিষ্ঠতায় তাদের প্রভাব সীমিত থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তারেক রহমান বলেন, গণতন্ত্রে বিশ্বাসী সব দলকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
শিক্ষার্থী আন্দোলনের গুরুত্ব
ছাত্রদের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা আন্দোলনের অবদান স্বীকার করে তিনি বলেন, গণতন্ত্রের জন্য যারা আত্মত্যাগ করেছেন তাদের প্রতি রাষ্ট্রের দায় রয়েছে। তিনি তাদের স্মৃতিকে সম্মান জানিয়ে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি অংশগ্রহণমূলক রাজনৈতিক পরিবেশ গড়ে তোলার অঙ্গীকার করেন। বিশ্লেষকদের মতে, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার এবং সামাজিক ঐক্য—এই তিনটি বড় চ্যালেঞ্জের মুখেই দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন তারেক রহমান।

