সকাল ঝলমলে আলো ফেলে কিশোর ও কিশোরীদের মুখে। এ আলো কেবল সূর্যের নয়, বরং পবিত্র কোরআনের আলোও যেন তাদের হৃদয়কে ছুঁতে এসেছে। বাংলাদেশ জুড়ে এক অনন্য উৎসবের বাতাবরণ তৈরি হচ্ছে—ইসলামিক আয়োজন করতে যাচ্ছে দেশের সর্ববৃহৎ জাতীয় হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতা।
প্রতিযোগিতার উদ্দেশ্য স্পষ্ট—কোমলমতি শিশু ও কিশোরদের কোরআন মুখস্থ করার প্রতি উৎসাহ জোগানো এবং ইসলামি সংস্কৃতি ও জ্ঞানচর্চায় অনুপ্রাণিত করা। মঙ্গলবার (০৩ মার্চ) মোহাম্মদ নিজাম উদ্দীন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।
এই প্রতিযোগিতা ধাপে ধাপে চলবে। প্রথমে উপজেলা পর্যায়ে প্রতিযোগিতা, এরপর জেলা, তারপরে বিভাগীয় পর্যায়, আর সবশেষে জাতীয় পর্যায়ে চূড়ান্ত রাউন্ডে বিজয়ীরা অংশ নেবে। অর্থাৎ, প্রতিটি বিজয়ীর যাত্রা শুরু হবে স্থানীয় থেকে, ধীরে ধীরে দেশব্যাপী সাফল্যে পৌঁছানোর সুযোগ তৈরি হবে।
তিনটি বয়সভিত্তিক গ্রুপে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে—
- ‘ক’ গ্রুপ: ৩০ পারা হিফজ, তাজবিদসহ, অনূর্ধ্ব ১৮ বছর
- ‘খ’ গ্রুপ: ২০ পারা হিফজ, তাজবিদসহ, অনূর্ধ্ব ১৫ বছর
- ‘গ’ গ্রুপ: ১০ পারা হিফজ, তাজবিদসহ, অনূর্ধ্ব ১২ বছর
জাতীয় পর্যায়ে প্রতিটি গ্রুপে সেরা তিনজনকে পুরস্কৃত করা হবে। প্রথম পুরস্কার ২ লাখ টাকা, দ্বিতীয় ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং তৃতীয় ১ লাখ টাকা। এছাড়া ক্রেস্ট ও সনদপত্র প্রদান করা হবে।
প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করতে আগ্রহীদের জমা দিতে হবে দুই কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি, জন্মনিবন্ধন সনদ বা জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি এবং সাদা কাগজে লিখিত আবেদন। এই আবেদন জমা দিতে হবে সংশ্লিষ্ট জেলা বা উপজেলা কার্যালয়ে। নাম নিবন্ধনের শেষ তারিখ ৩১ মার্চ। প্রতিযোগিতা শুরু হবে ১ এপ্রিল থেকে উপজেলা পর্যায়ে।
একই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে প্রতিটি গ্রুপে সর্বোচ্চ পাঁচজন অংশ নিতে পারবে। প্রতিযোগিতার এই আয়োজন শুধু কোরআন মুখস্থের প্রতিযোগিতা নয়, বরং এটি হয়ে উঠবে নবীন হৃদয়ের জন্য আলোর উৎসব—জ্ঞান, ধৈর্য ও আত্মবিশ্বাসের এক নতুন যাত্রা।

