নরসিংদী প্রতিনিধি:
নরসিংদী-২ আসনের নির্বাচনী পরিস্থিতি দিন দিন জটিল হয়ে উঠছে জামায়াতে ইসলামীর অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও অস্পষ্ট অবস্থানের কারণে। দলটির প্রার্থী উপাধ্যক্ষ আমজাদ হোসেন ও তার ঘনিষ্ঠ কিছু নিবেদিত কর্মীর কর্মকাণ্ড ঘিরে স্থানীয় রাজনীতিতে তৈরি হয়েছে বিভ্রান্তি ও প্রশ্ন।
যদিও কেন্দ্রীয়ভাবে জোটের প্রতি আনুগত্যের বার্তা এসেছে, মাঠপর্যায়ে তার প্রতিফলন নেই বললেই চলে। সম্প্রতি গাজীপুরে অনুষ্ঠিত এক জনসভায় জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান প্রকাশ্যে শাপলা কলি প্রতীকের পক্ষে সমর্থন ঘোষণা করেন। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের এই স্পষ্ট অবস্থান সত্ত্বেও নরসিংদী-২ আসনে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সেই নির্দেশনার বাস্তব প্রয়োগ দেখা যাচ্ছে না।
আরও লক্ষণীয় বিষয় হলো, নরসিংদী-২ আসনের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সভাপতি সাজ্জাদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে জোটের প্রতি সমর্থন জানালেও, সংগঠনের জেলা কিংবা উপজেলা পর্যায়ের শীর্ষ নেতাদের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর সাড়া পাওয়া যায়নি। মাঠে নেই সমন্বিত প্রচারণা বা সাংগঠনিক সক্রিয়তা।
এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে ভোটের অগ্রগতিতে। সংশ্লিষ্টদের মতে, পোস্টাল ভোটের একটি বড় অংশ দাড়ি–পাল্লা প্রতীকের দিকে ঝুঁকে পড়ছে, যা জোটের জন্য উদ্বেগজনক ইঙ্গিত বহন করছে। অথচ এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় এখনো পর্যন্ত জেলা পর্যায়ের নেতৃত্বের কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ চোখে পড়েনি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের ঘোষণার সঙ্গে মাঠপর্যায়ের নীরবতার এই বৈপরীত্য জামায়াতের সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ও আদর্শিক অবস্থান নিয়েই প্রশ্ন তুলছে। বিশেষ করে প্রার্থী আমজাদ হোসেন ও তার অনুসারীদের ভূমিকা জোটের ঐক্য ও কৌশলকে দুর্বল করছে বলে মত অনেকের।
নরসিংদী-২ আসনের রাজনীতিতে তাই এখন মূল প্রশ্ন—কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের প্রকাশ্য সমর্থনের পরও জামায়াত কি মাঠপর্যায়ে জোটের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ ও কার্যকর অবস্থান নেবে, নাকি এই অন্তর কলহই জোটের নির্বাচনী লড়াইকে আরও দুর্বল করে দেবে?

