নরসিংদী প্রতিনিধি:
নরসিংদীর বহুল আলোচিত আমেনা হত্যা মামলার মূল রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় আমেনার সৎ পিতা আশরাফ আলীই তাকে হত্যা করেছেন বলে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
শনিবার (৭ মার্চ) বিকেলে নরসিংদী পুলিশ সুপারের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে জেলা পুলিশ সুপার মোঃ আব্দুল্লাহ-আল-ফারুক এ তথ্য জানান।
পুলিশ সুপার জানান, তদন্তে উঠে এসেছে যে প্রকৃতপক্ষে আমেনার সৎ পিতা আশরাফ আলী (৪৫) পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী তাকে হত্যা করে অন্যদের নামে মিথ্যা হত্যা মামলা সাজিয়েছেন। গত ২৫ ফেব্রুয়ারি রাতে সহকর্মী সুমনের বাড়িতে যাওয়ার পথে তিনি গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আমেনাকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন।

জবানবন্দিতে আশরাফ আলী উল্লেখ করেন, ভিকটিমের বিভিন্ন অসামাজিক কর্মকাণ্ডের কারণে তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিরক্ত ছিলেন এবং সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন হওয়ার ক্ষোভ থেকেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন।
পুলিশ সুপার আরও জানান, আমেনা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার অন্যতম আসামি নূর মোহাম্মদ ওরফে নূরা (২৮) পূর্ব থেকেই আমেনার সাথে প্রেমের সম্পর্কের সূত্র ধরে শারীরিক সম্পর্কে জড়িত ছিল।
এছাড়া ঘটনার ১০ থেকে ১২ দিন আগে হযরত আলীর কোতালিরচর এলাকার বাড়িতে হযরত আলী, এবাদুল, জামান ও গাফফার মিলে তাকে দলবদ্ধভাবে ধর্ষণ করে বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
এ ঘটনায় ইতোমধ্যে ধর্ষণে জড়িত প্রেমিক নূর মোহাম্মদ ওরফে নূরা, এবাদুল্লাহ (৪০), হযরত আলী (৪০) ও গাফফার (৩৭) এবং ধর্ষণের ঘটনায় শালিশ করে আমেনার পরিবারকে এলাকা ছাড়ার অভিযোগে আহাম্মদ আলী মেম্বার ওরফে আহাম্মদ দেওয়ান, তার ছেলে মোঃ ইমরান দেওয়ান, প্রতিবেশী মোঃ আইয়ুব (৩০) ও ইছাহাক ওরফে ইছা কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃতদের বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে তারা ৮ দিনের রিমান্ডে রয়েছেন বলে পুলিশ জানায়।
উল্লেখ্য, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি সকালে নরসিংদী সদর উপজেলার মহিষাশুরা ইউনিয়নের কোতালিরচর দড়িকান্দি এলাকার একটি সরিষা ক্ষেত থেকে আমেনার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
ঘটনার সময় আমেনার সৎ বাবা দাবি করেছিলেন, বুধবার রাতে একদল বখাটে তার সামনে থেকেই আমেনাকে ছিনিয়ে নিয়ে যায় এবং পরে গণধর্ষণের পর তাকে হত্যা করে। তবে তদন্তে সেই দাবি মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে।

