কেন্দুয়া (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি:
নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার নওপাড়া ইউনিয়নের কোনাপাড়া গ্রামে রীমা আক্তার (১৮) নামে এক নববধূর মৃত্যুকে ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি আত্মহত্যা নাকি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড, তা নিয়ে দেখা দিয়েছে ধোঁয়াশা। বিষয়টি তদন্ত করছে পুলিশ।
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রীমার স্বামী পিয়েল (২২) এর বাড়ি তালাবদ্ধ। এসময় কথা হয়, পিয়েলের চাচা ইবরাহীম আলাল, সাবেক ইউপি সদস্য লাকী আক্তার, সাবেক ইউপি সদস্য হাবিবুল্লাহ, মো. ফারুক মিয়া, সাইদুর মুন্সি সহ প্রতিবেশী ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নিহত রীমা আক্তার মদন উপজেলার বাঁশরী গ্রামের মো. জাকির মিয়ার কন্যা। প্রেমের সম্পর্কের সূত্র ধরে প্রায় দুই মাস আগে দুই পরিবারের সম্মতিতে তার বিয়ে হয় কোনাপাড়া গ্রামের বিল্লাল বেপারীর ছেলে পিয়েলের সঙ্গে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, বিয়ের পর থেকেই দাম্পত্য জীবনে কলহ চলছিল। এ নিয়ে একাধিকবার স্থানীয়ভাবে সালিশ বৈঠকও হয়েছে।
পিয়েলের চাচা ইবরাহীম আলাল জানান, বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় ইফতারের পর রীমা অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাকে কেন্দুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে তিনি বিষজাতীয় কিছু পান করার কথা স্বীকার করেন বলে দাবি করেন তিনি। অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ পাঠানোর পরামর্শ দেন। সেখানে নেওয়ার পথে রীমার মৃত্যু হয় বলে পরিবারের দাবি।
অন্যদিকে শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারী) বিকেলে, নিহতের বাবা মো. জাকির মিয়ার সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বিয়ের পর থেকেই তার মেয়ের সঙ্গে স্বামীর বনিবনা হচ্ছিল না। তাকে বিভিন্নভাবে মানসিক চাপ দেওয়া হতো এবং প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়েছিল। ঘটনার রাতে খবর পেয়ে হাসপাতালে গিয়ে তিনি মেয়ের মরদেহ দেখতে পান। তার দাবি, রীমার শরীরে আঘাতের চিহ্ন ছিল এবং তাকে বিষপ্রয়োগে হত্যা করে আত্মহত্যা হিসেবে চালানোর চেষ্টা করা হয়েছে।
তিনি এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন এবং সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন।
এ বিষয়ে কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী মাকসুদ জানান, একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।

