ভারতীয় সংগীত জগতের এক উজ্জ্বল নক্ষত্রের অবসান ঘটল। সুরের মায়া কাটিয়ে চিরনিদ্রায় আচ্ছন্ন হলেন কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী আশা ভোঁসলে। ৯২ বছর বয়সে তাঁর এই চলে যাওয়া যেন ভারতীয় সংগীত ইতিহাসের একটি স্বর্ণযুগের সমাপ্তি। লতা মঙ্গেশকরের পর তাঁর বোন আশার এই বিদায়ে স্তব্ধ হয়ে পড়েছে গোটা উপমহাদেশের সংগীত অনুরাগীরা।
আশা ভোঁসলের প্রয়াণের খবর শুনে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন বাংলার প্রবীণ সংগীতশিল্পী হৈমন্তী শুক্লা। প্রিয় দিদির স্মৃতি চারণ করতে গিয়ে তিনি জানান, এটি কেবল ব্যক্তিগত ক্ষতি নয়, বরং সংগীত জগতের এক অপূরণীয় শূন্যতা। তাঁর মতে, আশা ভোঁসলে ছিলেন এমন এক শিল্পী যার সমকক্ষ খুঁজে পাওয়া ভার। তাঁর বহুমুখী প্রতিভা এবং কণ্ঠের জাদু প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে প্রেরণা হয়ে থাকবে।
আট দশকের দীর্ঘ ক্যারিয়ারে আশা ভোঁসলে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন এক অনন্য উচ্চতায়। শাস্ত্রীয় সংগীত থেকে শুরু করে ক্যাবারে, পপ কিংবা গজল—সব মাধ্যমেই তাঁর কণ্ঠ ছিল অপ্রতিদ্বন্দ্বী। তাঁর প্রয়াণকে লতা মঙ্গেশকর-পরবর্তী যুগের সবচেয়ে বড় ক্ষতি হিসেবে দেখছেন সংগীত বিশ্লেষকরা।
আশা ভোঁসলের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। দুই দেশের সংগীতশিল্পী, সুরকার এবং সাধারণ মানুষ তাঁদের প্রিয় ‘আশা তাই’-এর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করছেন। তাঁর গাওয়া হাজার হাজার কালজয়ী গান চিরকাল সংগীত প্রেমীদের হৃদয়ে অনুরণিত হবে।
সুরের ভুবনের এই মহাতারকা চিরবিদায় নিলেও, তাঁর সুরের অমল আলো চিরদিন সংগীত জগতকে পথ দেখিয়ে যাবে।

