সত্যজিৎ দাস (মৌলভীবাজার):
সিলেট বিভাগে নতুন করে আরও ২৪ জনকে ‘জুলাইযোদ্ধা’ হিসেবে গেজেটভুক্ত করেছে সরকার। এদের সবাইকে শ্রেণি-‘গ’ (আহত) ক্যাটাগরিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। প্রকাশিত তালিকার ২৩ জনই মৌলভীবাজার জেলার বাসিন্দা।
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে জারি করা প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানায়। এতে বলা হয়,যাচাই-বাছাই শেষে তালিকাটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে এবং সংশ্লিষ্টদের নাম, পিতা-মাতার নাম ও স্থায়ী ঠিকানাসহ প্রয়োজনীয় তথ্য সংযুক্ত রয়েছে।
সিলেট বিভাগের মৌলভীবাজার জেলার ২৩ ও সুনামগঞ্জের ০১ জন জুলাইযোদ্ধারা হলেন, আব্দুস সালাম তালুকদার, মুহাম্মদ সামায়েল, শাকিল আহমদ নিশান, আব্দুল্লাহ আল মাহবুব, মো. আলী হাসান, সুমি চৌধুরী, মো. বাবুল মিয়া, কাওছার আহমেদ, মো. লোকমান আহমদ, রেদওয়ানুল কালাম, উত্তম দেব, সৌমিত্র দাস, সিজান লস্কর রাহি, মো. আসাদুজ্জামান (আল আসাদ), আবু লেইছ চৌধুরী, মুকিদ আহমেদ আকাশ, সৈয়দ মো. রুবেল মিয়া, মো. মালিক মিয়া, খোদেজা বেগম, মাহফুজুল হাসান চৌধুরী, মো. শাহিন আহমদ ও সুনামগঞ্জের নকিব মিয়া।
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়,‘Rules of Business, 1996’-এর শিডিউল-১ (Allocation of Business) এর ক্রমিক নম্বর ২৩ এবং ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার ও জুলাইযোদ্ধাদের কল্যাণ ও পুনর্বাসন অধ্যাদেশ, ২০২৫’ (অধ্যাদেশ নং ৩০,২০২৫)-এর ১১(৪) ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এ গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে।
এর আগে তিন ধাপে ১১, ১৩ ও ১৭ ফেব্রুয়ারি আরও ৭১৩ জন জুলাইযোদ্ধার গেজেট প্রকাশ করা হয়। এর মধ্যে-
‘ক’ ক্যাটাগরিতে (অতি গুরুতর আহত) ৬ জন।
‘খ’ ক্যাটাগরিতে (গুরুতর আহত) ৩৩ জন।
‘গ’ ক্যাটাগরিতে (আহত) ৬৭৪ জন।
‘গ’ ক্যাটাগরির আহতদের মধ্যে ঢাকা বিভাগে ২০১ জন,বরিশাল বিভাগে ২ জন,সিলেট বিভাগে ২৪ জন,চট্টগ্রাম বিভাগে ২৩৬ জন, রাজশাহী বিভাগে ১৫৫ জন,রংপুর বিভাগে ৫১ জন এবং খুলনা বিভাগে ৫ জন রয়েছেন।
মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়,তিন শ্রেণি মিলিয়ে জুলাইযোদ্ধার সংখ্যা এখন ১৬ হাজার ছাড়িয়েছে। এর আগে মিথ্যা তথ্য প্রদান বা একাধিকবার নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়ার অভিযোগে ১২৮ জনের গেজেট বাতিল করা হয়েছে।
সরকার ঘোষিত নীতিমালা অনুযায়ী,ক্যাটাগরি ভিত্তিতে জুলাইযোদ্ধাদের আর্থিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
‘ক’ শ্রেণির অতি গুরুতর আহতরা এককালীন ৫ লাখ টাকা এবং মাসিক ২০ হাজার টাকা ভাতা পাচ্ছেন।
‘খ’ শ্রেণির গুরুতর আহতরা এককালীন ৩ লাখ টাকা এবং মাসিক ১৫ হাজার টাকা পাচ্ছেন।
‘গ’ শ্রেণির আহতরা এককালীন ১ লাখ টাকা এবং মাসিক ১০ হাজার টাকা ভাতা পাচ্ছেন। এ ছাড়া চিকিৎসা ব্যয় বাবদও সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নিয়ে নিহতদের ‘জুলাই শহীদ’ এবং আহতদের ‘জুলাইযোদ্ধা’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। সংশ্লিষ্ট অধ্যাদেশ অনুযায়ী তালিকা প্রণয়ন,যাচাই ও গেজেট প্রকাশের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

