বাংলাদেশে গুম হওয়া মানুষের অধিকার আদায়ে কাজ করা সংগঠন “মায়ের ডাক”-এর উদ্যোগে আয়োজিত এক আবেগঘন আলোচনা অনুষ্ঠানে গুমের শিকার মানুষ ও তাঁদের পরিবারের সীমাহীন কষ্ট, যন্ত্রণা ও দীর্ঘ অপেক্ষার বেদনার কথা গভীর আন্তরিকতার সঙ্গে তুলে ধরেছেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সংগ্রামী সাধারণ সম্পাদক এবং ঢাকা-১২ আসনের বিএনপি সমর্থিত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী জননেতা সাইফুল হক।
রবিবার ৫ জানুয়ারি ২০২৬, বেলা ১২টায় রাজধানীতে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, “গুম কোনো বিচ্ছিন্ন বা আকস্মিক ঘটনা নয়। এটি একটি পরিকল্পিত রাষ্ট্রীয় অপরাধ। বছরের পর বছর ধরে মানুষকে গুম করে রাখা হয়েছে, পরিবারগুলোকে অনিশ্চয়তা, ভয় ও অসহায়ত্বের অন্ধকারে নিক্ষেপ করা হয়েছে। এই অন্যায়ের বিচার ছাড়া দেশে প্রকৃত গণতন্ত্র ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।” তিনি আরও বলেন, “মায়ের ডাক শুধু একটি সংগঠনের নাম নয়—এটি নিপীড়িত মানুষের আর্তনাদ, হারানো স্বজনদের ফিরে পাওয়ার ন্যায্য দাবি। গুম হওয়া মানুষের মায়েরা আজও প্রতিদিন দরজার দিকে তাকিয়ে থাকেন, সন্তানের অপেক্ষায় পথ চেয়ে বসে থাকেন। এই বেদনা রাষ্ট্রের বিবেককে নাড়া দেওয়া উচিত।”
অনুষ্ঠানে গুম হওয়া ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যরা তাঁদের দীর্ঘদিনের দুঃসহ অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। স্বজনের কোনো খোঁজ না পাওয়া, আইনি সহায়তার অভাব, সামাজিক অবহেলা এবং ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকট—সব মিলিয়ে তাঁদের জীবনের করুণ বাস্তবতা অনুষ্ঠানে উপস্থিত সবার চোখে পানি এনে দেয়।
জননেতা সাইফুল হক মনোযোগ দিয়ে তাঁদের বক্তব্য শোনেন এবং বলেন, “এই পরিবারগুলো শুধু সহানুভূতি নয়, ন্যায়বিচার চায়। গুমের প্রতিটি ঘটনার স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।” তিনি গুমবিরোধী আন্দোলনে রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে পাশে থাকার অঙ্গীকারও ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মায়ের ডাক’র প্রতিষ্ঠাতা প্রকৌশলী সানজিদা ইসলাম তুলি, মায়ের ডাক’র সংগঠক মো. মঞ্জুর হোসেন ঈসা, গুম হওয়া স্বজনের পরিবারের সদস্যবৃন্দ ও তেজগাঁও থানা বিএনপির নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন পর্যায়ের রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিত্ব।
অনুষ্ঠান শেষে জননেতা সাইফুল হক মায়ের ডাক-এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হাজেরা খাতুন-এর সঙ্গে সৌজন্যে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় তিনি তাঁর শারীরিক খোঁজখবর নেন এবং গুম হওয়া মানুষের অধিকার আদায়ে সংগঠনটির দীর্ঘদিনের সংগ্রামের প্রতি সম্মান ও সংহতি প্রকাশ করেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া-র আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মুনাজাত করা হয়। এ সময় তাঁর রাজনৈতিক সংগ্রাম, ত্যাগ ও নেতৃত্বের কথা স্মরণ করা হয়।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, আগামীকাল ৬ জানুয়ারি ২০২৬, দুপুরে মায়ের ডাক সংগঠনের পক্ষ থেকে সভাপতি হাজেরা খাতুন ও প্রতিষ্ঠাতা প্রকৌশলী সানজিদা ইসলাম তুলি-র নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল বিএনপির গুলশান কার্যালয়ে গিয়ে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শোক বইতে স্বাক্ষর করবেন।
অনুষ্ঠানটি গুমবিরোধী আন্দোলনে নতুন করে গতি সঞ্চার করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বক্তারা বলেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়গুলো রাজনৈতিক অঙ্গনে আরও গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হওয়া জরুরি।

