আবুল কাশেম রুমন, সিলেট ব্যুরো:
সিলেট নগরীতে হঠাৎ করেই মশার উপদ্রব বেড়ে গেছে। এ বিষয়ে সিলেট সিটি কর্পোরেশন (সিসিক)-এর কার্যকর কোনো ভূমিকা দেখা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। সিটি কর্পোরেশনের নীরব ভূমিকার কারণে নগরবাসীর মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে বৃহত্তর সিলেটের অরাজনৈতিক স্বেচ্ছাসেবী সামাজিক সংগঠন ‘সিলেট কল্যাণ সংস্থা’ (সিকস), ‘সিলেট বিভাগ যুব কল্যাণ সংস্থা’ ও ‘সিলেট প্রবাসী কল্যাণ সংস্থা’-এর যৌথ উদ্যোগে সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসকের কাছে একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে।
পবিত্র রমজান মাস চলায় ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা ইবাদত-বন্দেগিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। কিন্তু মশার চরম উপদ্রবে নগরবাসী দিন-রাত অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন।
সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে বলা হয়, মশা নিধনে সিটি কর্পোরেশনের বর্তমান কার্যক্রম অনেকটা ‘আইওয়াশ’ বা লোক দেখানো। ফগার মেশিনের মাধ্যমে যে ধোঁয়া দেওয়া হচ্ছে, তা মশা নিধনে কার্যকর নয় বলেও দাবি করা হয়। অভিযোগ করা হয়, মেয়াদোত্তীর্ণ ও অকার্যকর ওষুধ ব্যবহারের কারণে মশা না মরলেও ড্রেনের তেলাপোকা ও ইঁদুর মারা যাচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের জন্য স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে।
‘সিলেট কল্যাণ সংস্থা’র উদ্যোগে আয়োজিত এক সমাবেশে বক্তারা বলেন, মশার উপদ্রব থেকে বাঁচতে নগরবাসী কয়েল, স্প্রে ও বিভিন্ন রাসায়নিক ব্যবহার করছেন, যা শিশু ও বৃদ্ধদের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। এতে ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া ও ইয়েলো ফিভারের মতো প্রাণঘাতী রোগের ঝুঁকিও বাড়ছে। অথচ সিটি কর্পোরেশন শীতের শেষে এসে দায়সারা কার্যক্রম চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
বক্তারা অনতিবিলম্বে মাঠপর্যায়ে সুষ্ঠু পরিকল্পনার মাধ্যমে বাস্তবভিত্তিক ও দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ গ্রহণের জোর দাবি জানান।
সিলেট বিভাগ যুব কল্যাণ সংস্থা (সিবিযুকস)-এর বিভাগীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন রশিদ চৌধুরীর সঞ্চালনায় এবং বিভাগীয় সভাপতি আলহাজ মুখতার আহমেদ তালুকদারের স্বাগত বক্তব্যে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন সহসভাপতি মো. আব্দুস শহীদ খান, চিত্ত রঞ্জন দাস ও অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ কামাল মিয়া প্রমুখ।

