ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির ছেলে মোজতবা খামেনি গুরুতর আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো। শনিবার (১১ এপ্রিল) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, তার ঘনিষ্ঠ তিনটি সূত্রের বরাতে এ তথ্য উঠে এসেছে।
সূত্রগুলো জানায়, ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে শুরু হওয়া সংঘাতের প্রথম দিনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ বিমান হামলায় মোজতবা খামেনি আহত হন। হামলায় তার মুখমণ্ডল এবং এক বা উভয় পায়ে গুরুতর আঘাত লাগে বলে দাবি করা হয়।
সংবেদনশীল বিষয় হওয়ায় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্রগুলো আরও জানায়, বর্তমানে ৫৬ বছর বয়সি মোজতবা খামেনি ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন এবং মানসিকভাবে সম্পূর্ণ সজাগ আছেন। তারা জানান, তিনি বর্তমানে অডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে অংশ নিচ্ছেন এবং যুদ্ধ পরিস্থিতি ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনাসহ গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় যুক্ত আছেন।
তবে রয়টার্স স্বাধীনভাবে এসব তথ্য যাচাই করতে পারেনি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। হামলার পর থেকে মোজতবা খামেনির কোনো ছবি, ভিডিও বা অডিও প্রকাশ না পাওয়ায় তার শারীরিক অবস্থা ও অবস্থান নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে বলেও জানানো হয়।
সূত্রগুলো আরও দাবি করে, হামলায় তার পরিবারের কয়েকজন সদস্যও নিহত হন এবং তিনি নিজেও গুরুতরভাবে আহত হন। তবে ইরান সরকার এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি দেয়নি।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের কিছু কর্মকর্তার বরাতে দাবি করা হয়, মোজতবা খামেনি সম্ভবত গুরুতর শারীরিক জটিলতার মধ্যে আছেন, এমনকি তার একটি পা হারানোর সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। তবে সিআইএ এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।
অন্যদিকে ইরানের পক্ষ থেকেও তার শারীরিক অবস্থার বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করা হয়নি। জাতিসংঘে ইরানের মিশনও এ বিষয়ে রয়টার্সের প্রশ্নের জবাব দেয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, এমন সময়ে মোজতবা খামেনির শারীরিক অবস্থা নিয়ে এই ধরনের তথ্য প্রকাশ ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং নেতৃত্ব কাঠামো নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিতে পারে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতি আলোচনার প্রেক্ষাপটে বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
তবে একটি ইরানি সূত্রের দাবি, আগামী এক থেকে দুই মাসের মধ্যে মোজতবা খামেনির ছবি প্রকাশ করা হতে পারে এবং পরিস্থিতি অনুকূল হলে তিনি জনসমক্ষে আসতে পারেন।

