হাবিব আহমেদ, রাজশাহী প্রতিনিধি:
একসময় রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) কোনো স্থায়ী ভবন ছিল না। পৌরসভা থেকে সিটি করপোরেশন হিসেবে উত্তরণের আগে টিনসেট ভবনে কার্যক্রম চলত। প্রথমে ভুবন মোহন পার্কে, পরে সোনাদীঘি ও রাজশাহী কলেজের কিছু কক্ষে প্রশাসনিক কাজ চলত।
১৯৯১ সালের নির্বাচনে প্রথমবারের মতো মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর মিজানুর রহমান মিনু রাসিককে আধুনিক করার উদ্যোগ নেন। তিনি স্থায়ী সিটি করপোরেশন ভবনের জায়গা নির্ধারণ করে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। নগর ভবনের নির্মাণ কার্যক্রম ১৯৯৭ থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত চলে এবং এতে ব্যয় হয়েছিল প্রায় ৯ কোটি ৯৪ লাখ ৫২ হাজার টাকা, যা বর্তমানে শত কোটি টাকার সমান। ১৭ ফেব্রুয়ারি ১৯৯৯ সালে নগর ভবনের দ্বার উন্মোচিত হয়।
মিনু শুধু নগর ভবনের স্থপতি নন, তিনি রাসিকের তিনটি মার্কেটের—স্বপ্নচূড়া, দারুচিনি প্লাজা ও বৈখাশী বাজার—পরিকল্পক ও নকশাকারক হিসেবেও পরিচিত। রাসিকের নিজস্ব অর্থায়নে এসব মার্কেট নির্মাণের উদ্যোগ নেন। যদিও দারুচিনি প্লাজা শেষ পর্যন্ত নির্মাণ হয়নি, স্বপ্নচূড়া ও বৈখাশী বাজার নির্মিত হলেও পরবর্তী সময়ে ব্যবসায়িক কার্যক্রম খুব সীমিত হয়েছে।
মিজানুর রহমান মিনুর নির্মাণ ও পরিকল্পনা এমন নিখুঁত ছিল যে, তার স্থাপিত নগর ভবন উত্তরাঞ্চলের মধ্যে সবচেয়ে দৃষ্টিনন্দন আধুনিক ভবন হিসেবে খ্যাতি অর্জন করে। বর্তমানে নগরবাসি আশা করছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মিজানুর রহমান মিনু নির্বাচিত হওয়ার পর রাজশাহীতে পুনরায় উন্নয়ন কাজ এগোবে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, মিনুর মেয়রত্বকালে রাসিকের আধুনিকীকরণ ও পরিকল্পনা ছিল সম্পূর্ণ নিখুঁত ও যুগোপযোগী, যা আজও রাজশাহীর উন্নয়নের স্মারক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

