বিতর্কিত ও উগ্রবাদী বক্তব্যের অভিযোগে জনপ্রিয় ধর্মীয় বক্তা মাওলানা মিজানুর রহমান আজহারির ভিসা বাতিল করেছে অস্ট্রেলিয়া। অ্যাডলফ হিটলারের প্রশংসা এবং ইহুদিদের বিরুদ্ধে ঘৃণা ও বিদ্বেষ ছড়ানোর অভিযোগে তাঁকে দেশ ছাড়তে বাধ্য করা হচ্ছে। বুধবার ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইলের এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।
অস্ট্রেলিয়া সফরের অংশ হিসেবে ‘লেগাসি অফ ফেইথ’ (Legacy of Faith) শীর্ষক একটি সিরিজ বক্তৃতায় অংশ নিতে আজহারির ব্রিসবেন, মেলবোর্ন, সিডনি ও ক্যানবেরায় যাওয়ার কথা ছিল। তবে সফর চলাকালীন সময়েই তাঁর ভিসা বাতিল করায় তিনি এখন প্রত্যাবর্তনের অপেক্ষায় আছেন। ডেইলি মেইলই সর্বপ্রথম আজহারির বিতর্কিত বিষয়গুলো জনসমক্ষে আনে।
ডেইলি মেইলের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ২০২৩ সালে আজহারি বিভিন্ন বক্তৃতায় ইহুদি-বিদ্বেষী ষড়যন্ত্র তত্ত্ব প্রচার করেছেন এবং হলোকাস্টের (ইহুদি নিধনযজ্ঞ) প্রশংসা করেছেন। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়:
তিনি হিটলারকে ইহুদিদের জন্য ‘ঐশ্বরিক শাস্তি’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। ইহুদিদের ‘বিশ্বের সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসী’ এবং ‘বিষাক্ত কলঙ্ক’ বলে অভিহিত করেছেন। তাঁর বক্তব্যে ইহুদিদের অমানবিক হিসেবে তুলে ধরার প্রমাণ পাওয়া গেছে।
অস্ট্রেলিয়ার লিবারেল সিনেটর জোনাথন ডুনিয়াম বুধবার সিনেটে জানান, আজহারির আগমন সম্পর্কে সংসদ সদস্যদের আগে থেকেই সতর্ক করা হয়েছিল। তিনি বলেন:
“অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেশন ফর এথনিক অ্যান্ড রিলিজিয়াস মাইনরিটিজ-সহ বিভিন্ন গোষ্ঠী থেকে আমরা তথ্য পেয়েছিলাম। মন্ত্রীর কাছেও এ বিষয়ে অভিযোগ জমা পড়েছিল।”
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, উগ্র বক্তব্যের কারণে আজহারিকে এর আগেও যুক্তরাজ্যে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল। এমনকি বাংলাদেশেও তাঁর জনসম্মুখে বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে বিভিন্ন সময়ে সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়েছে।
অনলাইনে ১০ মিলিয়নেরও বেশি অনুসারী থাকা এই বক্তার ভিসা বাতিলের ঘটনাটি প্রবাসী বাংলাদেশি ও আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে। অস্ট্রেলীয় কর্তৃপক্ষের এই কঠোর অবস্থান দেশটিতে ঘৃণা ও বিদ্বেষ প্রচারের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিরই বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

