রোববার সকাল। ভৈরব বাসস্ট্যান্ড এলাকার একটি বাসা থেকে প্রতিদিনের মতোই বের হলেন মো. আলমগীর হোসেন। স্ত্রীকে বললেন, অফিসে যাচ্ছেন। হাতে ছিল দিনের কাজের তাড়া, আর পরিবারের কাছে সেটিই ছিল একেবারে স্বাভাবিক সকাল। কিন্তু সেদিনের সেই বের হওয়াই শেষ বের হওয়া হয়ে থাকবে—তা কেউই কল্পনা করেননি।
আলমগীর হোসেন ছিলেন জনতা ব্যাংকের ভৈরব শাখার একজন কর্মকর্তা। বাড়ি হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার নুরপুর লম্বাহাটি গ্রামে হলেও তিনি পরিবার নিয়ে ভৈরবের বাসস্ট্যান্ড এলাকায় থাকতেন। প্রতিদিনের মতোই সেদিনও সকাল সাড়ে আটটার দিকে তিনি বাসা থেকে বের হন।
কিন্তু সময় গড়াতে গড়াতে দুপুর হয়ে যায়। তখন অফিস থেকে খবর আসে—আলমগীর সেদিন অফিসে যাননি। খবরটি শুনে পরিবারের উদ্বেগ বাড়তে থাকে। তাঁকে ফোন করা হলে মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়। কোথাও খোঁজ মিলছিল না তাঁর।
সেই দিনই আলমগীরের স্ত্রী তাছলিমা আক্তার ভৈরব থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। এরপর শুরু হয় খোঁজাখুঁজি। পুলিশ ও পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ করেও তাঁর কোনো সন্ধান পাচ্ছিলেন না।
দিন পেরিয়ে যায় এক, দুই, তিন… তবু কোনো খবর নেই। অবশেষে বুধবার সন্ধ্যা।
উপজেলার কালিকাপ্রসাদ এলাকায় অবস্থিত বিসিক শিল্পনগরীর পাশে স্থানীয় কিছু মানুষ একটি মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। খবর দেওয়া হয় পুলিশকে। সন্ধ্যা সাতটার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে। পরে শনাক্ত করা হয়—এটি নিখোঁজ ব্যাংক কর্মকর্তা আলমগীর হোসেনের মরদেহ। পরিবারে নেমে আসে শোকের ছায়া।
আলমগীরের স্ত্রী তাছলিমা আক্তার বলেন, তাঁদের দাম্পত্য সম্পর্ক ভালো যাচ্ছিল না। কিছুদিন আগে আলমগীর তাঁকে বলেছিলেন, তিনি লাপাত্তা হয়ে যাবেন। তবে কীভাবে তাঁর মৃত্যু হয়েছে, তা তিনি বুঝতে পারছেন না।
ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আতাউর রহমান আকদ জানান, মরদেহের পাশে একটি বোতল পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, সেটি বিষের বোতল ছিল। আলমগীরের এক পায়ে সামান্য আঘাতের চিহ্নও দেখা গেছে।
পুলিশের ধারণা, কয়েক দিন আগেই তাঁর মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। কীভাবে ঘটল এই মৃত্যু—আত্মহত্যা, নাকি অন্য কোনো রহস্য—তার উত্তর এখনো খুঁজছে পুলিশ। কিন্তু পরিবারের কাছে একটি প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে— সেদিন সকালে অফিসে যাওয়ার কথা বলে বের হওয়া মানুষটি কেন আর ফিরে এলেন না?

