পবিত্র রমজান মাসের চাঁদ ওঠার আগের সন্ধ্যা। ঢাকার আকাশে তখন মৃদু বাতাস, মানুষের মনে এক ধরনের আধ্যাত্মিক প্রত্যাশা। ঠিক এমন সময় এক বার্তা ছড়িয়ে পড়ে দেশজুড়ে— মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, যিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর মহাসচিব এবং নবগঠিত সরকারের স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন, তিনি রমজান উপলক্ষে দেশবাসীর উদ্দেশে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।
আজ বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হয়েছে পবিত্র রমজান। তার আগের দিন দেওয়া বাণীতে তিনি বাংলাদেশসহ বিশ্বের সব মুসলমানকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ জানান। তাঁর কণ্ঠে ছিল প্রত্যাশা, হৃদয়ে ছিল প্রার্থনা।
তিনি স্মরণ করিয়ে দেন—রমজানের প্রধান ইবাদত সিয়াম বা রোজা। এই মাস শুধু ক্ষুধা-তৃষ্ণা সহ্য করার সময় নয়; এটি আত্মশুদ্ধির মাস, আত্মসংযমের মাস। একজন রোজাদার যখন মহান রাব্বুল আলামিনের কাছে করুণা ভিক্ষা করে, তখন তিনি সন্তুষ্টচিত্তে বান্দাকে ক্ষমা করে দেন। দীর্ঘ ১১ মাস অপেক্ষার পর আগত এই মাস অধিক মর্যাদাশীল ও বরকতপূর্ণ। আল্লাহ বলেন, “রমজান মাস, এতে মানুষের এবং সৎ পথের সুস্পষ্ট নিদর্শন ও সত্যাসত্যের পার্থক্যকারীরূপে কোরআন অবতীর্ণ হয়েছে।”
এই বাণীতে তিনি আরও তুলে ধরেন, রমজান ইবাদতের বিশেষ মওসুম। সিয়াম সাধনা মানুষের গুণাহ দূর করে, আত্মিক ও আধ্যাত্মিক পূর্ণতার ক্ষেত্র তৈরি করে। এ মাসের উদ্দেশ্য পাপ থেকে বিরত থাকা, ঈমান ও তাকওয়া অর্জন করা। রোজা ও ইবাদতের মাধ্যমে আল্লাহর আশীর্বাদ বহুগুণে বর্ষিত হয়—এই বিশ্বাসই একজন মুমিনকে সংযমী ও সহনশীল করে তোলে।
কিন্তু তাঁর বার্তার মূল সুর ছিল সমাজজীবনের জন্য এক গভীর আহ্বান। তিনি কামনা করেন—সংযমের মধ্য দিয়ে মানুষ হিংসা-প্রতিহিংসা, অপরের অমঙ্গল কামনা, অশ্লীলতা ও পঙ্কিলতার আবর্ত থেকে মুক্ত হোক। সমাজে ফিরে আসুক শান্তি, স্বস্তি ও ইনসাফ।
সন্ধ্যার আকাশে যখন প্রথম তারাটি জ্বলে ওঠে, তখন তাঁর সেই প্রার্থনা যেন বাতাসে ভেসে বেড়ায়—এই রমজান হোক আত্মশুদ্ধির, মানবিকতার এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার মাস। দেশের প্রতিটি ঘরে ঘরে ছড়িয়ে পড়ুক সুখ, শান্তি ও কল্যাণের আলো।

