যখন হোয়াইট হাউস ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি এবং হরমুজ প্রণালির সংকটের মতো বড় ভূ-রাজনৈতিক ইস্যুতে ব্যস্ত, ঠিক তখনই যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে কোনো ব্যক্তিগত সম্পর্ক থাকার কথা অস্বীকার করে কড়া বিবৃতি দিলেন ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) দেওয়া এই বিবৃতিতে তিনি নিজেকে এপস্টেইন বিতর্ক থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত দাবি করেন।
মেলানিয়া জানান, ১৯৯৮ সালে একটি পার্টিতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়েছিল, যা এপস্টেইন করিয়ে দেননি। ২০০০ সালে একটি অনুষ্ঠানে তিনি প্রথমবার এপস্টেইনকে দেখেন, তখন তাঁর অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে মেলানিয়ার কোনো ধারণা ছিল না।
গিসলেইন ম্যাক্সওয়েলকে (এপস্টেইনের সহযোগী) পাঠানো ইমেইলটিকে তিনি কেবলই একটি ‘সাধারণ সৌজন্যমূলক যোগাযোগ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
তিনি স্পষ্ট করে বলেন যে, তিনি কখনোই এপস্টেইনের ব্যক্তিগত বিমানে চড়েননি এবং তাঁর বিতর্কিত ব্যক্তিগত দ্বীপেও যাননি।
এফবিআই তদন্ত বা আদালতের কোনো নথিতে তাঁর নাম নেই এবং তিনি এপস্টেইনের কোনো অপরাধের সাক্ষী বা অংশগ্রহণকারী নন।
ফক্স নিউজের হোয়াইট হাউস করেসপনডেন্ট জ্যাকি হেনরিকসহ অনেক বিশ্লেষকই এই টাইমিং নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। যখন কোনো নতুন অভিযোগ সামনে নেই, তখন কেন হঠাৎ এই আত্মপক্ষ সমর্থন—তা নিয়ে কৌতূহল তৈরি হয়েছে। মেলানিয়ার সিনিয়র অ্যাডভাইজার মার্ক বেকম্যান অবশ্য একে ‘মিথ্যাচারের বিরুদ্ধে অবস্থান’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, মেলানিয়ার এই বিবৃতির পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি আগে থেকে কিছুই জানতেন না। যদিও নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট বিষয়টি আগে থেকেই জানতেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, হোয়াইট হাউস যখন এপস্টেইন বিতর্ককে পেছনে ফেলে সামনে এগোতে চাইছে, তখন মেলানিয়ার এই মন্তব্য পুরোনো বিতর্ককে আবারও সাধারণ মানুষের নজরে নিয়ে এল। ইরান যুদ্ধের উত্তেজনার মাঝে এই ঘরোয়া বিতর্ক ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য এক নতুন অস্বস্তি তৈরি করতে পারে।

