সমাপ্তী খান, মাভাবিপ্রবি প্রতিনিধি:
একই সময়ে, একই বিশ্ববিদ্যালয়ে, একই লক্ষ্য নিয়ে পথচলা—শেষ পর্যন্ত সেই পথ মিলেছে এক অনন্য সাফল্যে। মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (মাভাবিপ্রবি) ফুড টেকনোলজি অ্যান্ড নিউট্রিশন সায়েন্স (এফটিএনএস) বিভাগের দুই সহকারী অধ্যাপক, দম্পতি ড. শ্যামলী আক্তার ও ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম জাপান থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করে সৃষ্টি করেছেন এক অনুপ্রেরণার গল্প।
ড. শ্যামলী আক্তার জানান, তিনি জাপানের Iwate University-এর The United Graduate School of Agricultural Science-এ ২০২১ সালের এপ্রিল মাসে গবেষণা কার্যক্রম শুরু করে ২০২৬ সালের মার্চে সফলভাবে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। তাঁর গবেষণা জাপান সরকারের Ministry of Education, Culture, Sports, Science and Technology (MEXT) এর অর্থায়নে প্রদত্ত ডক্টরাল ফেলোশিপের আওতায় সম্পন্ন হয়।
তাঁর গবেষণায় Streptomyces antibioticus থেকে প্রাপ্ত phospholipase D (PLD) এনজাইম ব্যবহার করে plasmalogens-এ নতুন কার্যকরী হেড গ্রুপ যুক্ত করার একটি এনজাইমেটিক পদ্ধতি উপস্থাপন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে plasmalogen-inositolসহ বিভিন্ন বিরল প্লাসমালোজেন প্রজাতির সফল সংশ্লেষণ সম্ভব হয়েছে। এই আবিষ্কার কার্যকরী লিপিড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের পরিধি প্রসারিত করার পাশাপাশি বিরল প্লাসমালোজেনের জৈবিক তাৎপর্য অনুসন্ধানে নতুন সুযোগ সৃষ্টি করেছে।
তিনি বলেন, জাপানের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বিশ্বমানের শিক্ষা ও গবেষণার পরিবেশ বিদ্যমান। অত্যাধুনিক গবেষণাগার, দক্ষ ও সহায়ক সুপারভিশন এবং উদ্ভাবনী কাজের বিস্তৃত সুযোগ শিক্ষার্থীদের গবেষণামুখী করে তোলে। পাশাপাশি MEXT স্কলারশিপের আওতায় টিউশন ফি, মাসিক স্টাইপেন্ড ও যাতায়াত ব্যয় সম্পূর্ণ বহন করা হয়, ফলে শিক্ষার্থীরা আর্থিক চাপমুক্ত থেকে গবেষণায় মনোনিবেশ করতে পারে।
অন্যদিকে, ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম একই বিশ্ববিদ্যালয়ের একই গ্র্যাজুয়েট স্কুল থেকে একই সময়ে পিএইচডি সম্পন্ন করেন। তাঁর গবেষণা বাংলাদেশ সরকারের ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে প্রদত্ত ডক্টরাল ফেলোশিপের আওতায় পরিচালিত হয়।
তিনি জানান, তাঁর গবেষণায় ব্যাকটেরিয়ার বিপাকীয় প্রক্রিয়াকে প্রকৌশলগতভাবে পরিবর্তন করে কৃষি বর্জ্য—বিশেষত আখের খোসা—থেকে ভ্যানিলিক অ্যাসিড উৎপাদন করা হয়েছে। এই ভ্যানিলিক অ্যাসিড ব্যবহার করে জৈব-ভিত্তিক পলিমার তৈরি করা সম্ভব, যা প্রচলিত পেট্রোলিয়াম-ভিত্তিক পলিমারের একটি টেকসই ও পরিবেশবান্ধব বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
এই গবেষণা শিল্পক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করার পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণ ও ভবিষ্যৎ জৈব-উপাদান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
উল্লেখ্য, ড. শ্যামলী আক্তার ও ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম—দুজনই মাভাবিপ্রবির এফটিএনএস বিভাগের শিক্ষক এবং তারা স্বামী-স্ত্রী। একই সময়ে, একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি অর্জনের এই অর্জন বিশ্ববিদ্যালয়টির জন্য যেমন গৌরবের, তেমনি তরুণ গবেষকদের জন্য অনুপ্রেরণার এক উজ্জ্বল উদাহরণ।

