পাকিস্তানের করাচির এম এ জিন্নাহ সড়কের গুল প্লাজা শপিং মলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (১৭ জানুয়ারি) গভীর রাতে আগুন লাগার পর রোববার সকাল পর্যন্তও তা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি। দীর্ঘ সময় ধরে উদ্ধার অভিযান চলছে।
স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগুন লাগার কয়েক ঘণ্টা পরও পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। করাচির সিভিল হাসপাতালের ট্রমা সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক চিকিৎসক সাবির মেমন প্রথমে জানান, তিনটি মরদেহ হাসপাতালে আনা হয়েছে, যারা সবাই আগেই মারা গিয়েছিলেন। পরে দক্ষিণ করাচির উপ-মহাপুলিশ পরিদর্শক সৈয়দ আসাদ রাজা রোববার সকালে জানান, নিহতের সংখ্যা বেড়ে পাঁচে দাঁড়িয়েছে। রেসকিউ ১১২২-এর মুখপাত্র হাসানুল হাসিব খানও নিহতের সংখ্যা নিশ্চিত করেছেন। এছাড়া এ ঘটনায় অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন।
রেসকিউ কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে, গুল প্লাজায় প্রায় ১,২০০টি দোকান রয়েছে। এসব দোকানে ক্রোকারিজ, পোশাক, বৈদ্যুতিক সামগ্রী, প্রসাধনী ও সুগন্ধি থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং তীব্রতা বৃদ্ধি পায়। আগুন নেভাতে বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার অন্তত ২০টি অগ্নিনির্বাপণ গাড়ি কাজ করছে।
হাসানুল হাসিব খান বলেন, ভবনটি অত্যন্ত পুরোনো হওয়ায় আগুনের তাপে যেকোনো সময় কাঠামো ধসে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই উদ্ধার অভিযান অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পরিচালনা করা হচ্ছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, আগুনের সূত্রপাত হয় ভবনের নিচতলার কয়েকটি দোকান থেকে।
উদ্ধার কাজে অংশ নেওয়া এধি ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, আগুনের তীব্রতায় ভবনের একটি অংশ ধসে পড়েছে। গার্ডেন এলাকার উপবিভাগীয় পুলিশ কর্মকর্তা মহসিন রাজা প্রাথমিকভাবে জানিয়েছেন, একটি দোকানে বিদ্যুতের শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে তা পুরো মার্কেটে ছড়িয়ে পড়ে।
ঘটনার পর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সিন্ধুর গভর্নর কামরান তেসোরি। গভর্নরের কার্যালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম জোরদার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও নেভানোর কার্যক্রম নিয়ে দ্রুত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্টদের সর্বাত্মক সহযোগিতা করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
সিন্ধুর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী জিয়াউল হাসান লঞ্জা ওই এলাকায় যান চলাচল বিকল্প পথে ঘুরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, আগুনের প্রকৃত কারণ নির্ধারণে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রয়োজন। একই সঙ্গে ভবনটি নিরাপদ রাখা এবং আগুন আশপাশে ছড়িয়ে না পড়ার ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন।
উদ্ধার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সিন্ধ রেঞ্জার্সও মোতায়েন করা হয়েছে। সংস্থাটির এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, রেঞ্জার্স সদস্যরা ফায়ার সার্ভিসের সঙ্গে যৌথভাবে উদ্ধার কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছেন এবং অভিযান শেষ না হওয়া পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করবেন। পাশাপাশি ভবন ঘিরে নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে, যাতে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায় এবং যান চলাচল স্বাভাবিক রাখা যায়।
উল্লেখ্য, আগের দিন শুক্রবার বিকেলে করাচি পোর্ট ট্রাস্ট এলাকায় বৈদ্যুতিক ব্যাটারিভর্তি অন্তত ২০টি কনটেইনার পুড়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটে। টানা দুই দিনের ব্যবধানে এমন বড় অগ্নিকাণ্ডে করাচিতে অগ্নিনিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।

