জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও লাগামহীন মূল্যস্ফীতির প্রতিবাদে শুরু হওয়া আন্দোলন এখন ইরান সরকারের বিরুদ্ধে এক বিশাল গণবিক্ষোভে রূপ নিয়েছে। গত ২৮ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর অবস্থানে নিহতের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। একটি মার্কিন সংবাদমাধ্যমের দাবি অনুযায়ী, শুধুমাত্র তেহরানের কয়েকটি হাসপাতালেই দুই শতাধিক মানুষের মৃত্যুর রেকর্ড পাওয়া গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের টাইম ম্যাগাজিনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তেহরানের এক চিকিৎসক জানিয়েছেন, রাজধানীর মাত্র ছয়টি হাসপাতালে অন্তত ২১৭ জন বিক্ষোভকারীর মৃত্যু রেকর্ড করা হয়েছে। নিহতদের অধিকাংশই তরুণ এবং তাদের শরীরে গুলির চিহ্ন পাওয়া গেছে। ওই চিকিৎসক আরও অভিযোগ করেন, গত শুক্রবার হাসপাতাল থেকে অনেক লাশ কর্তৃপক্ষ সরিয়ে নিয়ে গেছে।
অন্যদিকে, ইরানি মানবাধিকার সংগঠন এইচআরএএনএ জানিয়েছে, বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ৬২ জন প্রাণ হারিয়েছেন। যার মধ্যে ১৪ জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য এবং ৪৮ জন বিক্ষোভকারী। এছাড়া তুর্কি বার্তা সংস্থা আনাদোলুর প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার কেরমানশাহ শহরে বিক্ষোভ চলাকালে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) আট সদস্য নিহত হয়েছেন।
বিক্ষোভ দমনে এবং খবর প্রচার রুখতে ইরান সরকার কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাত থেকে দেশটিতে ইন্টারনেট ও টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা প্রায় সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ফলে বিভিন্ন শহর থেকে প্রকৃত তথ্য পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। হতাহতের সংখ্যার বিষয়ে ইরান সরকার এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।
প্রাথমিকভাবে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে সাধারণ মানুষ রাস্তায় নামলেও, বর্তমানে তা রাজনৈতিক রূপ নিয়েছে। বিক্ষোভকারীরা সরকারের বিভিন্ন নীতির বিরুদ্ধে স্লোগান দিচ্ছেন। নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিবর্ষণের ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশ এবং মানবাধিকার সংস্থাগুলো ইরানে চলমান এই সহিংসতা ও ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্নের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

