“রাষ্ট্রের কাছে আমি এবং আমার সন্তানের একমাত্র দাবি, আমার স্বামী শহীদ ওসমান হাদি হত্যার বিচার। জাগতিক সকল চাওয়া-পাওয়ার ঊর্ধ্বে ওসমান হাদির ন্যায়বিচার।” এভাবেই অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে নিজের দাবির কথা জানালেন ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরীফ ওসমান বিন হাদির স্ত্রী রাবেয়া ইসলাম শম্পা।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) এক আবেগঘন বিবৃতিতে তিনি তাঁর স্বামী হত্যার প্রকৃত পরিকল্পনাকারী ও খুনিদের দ্রুততম সময়ে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান। তিনি স্পষ্ট করেন যে, কোনো প্রকার আর্থিক সহায়তা বা সুযোগ-সুবিধা নয়, বরং তাঁর একমাত্র কাম্য হলো সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা।
গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর পুরানা পল্টনে জুমার নামাজের পর রিকশায় থাকা অবস্থায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে আহত হন ওসমান হাদি। ১৮ ডিসেম্বর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। এই ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
সম্প্রতি ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) সাবেক কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পিসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করলেও বাদীপক্ষ তাতে সন্তুষ্ট হতে পারেনি। তাঁদের অভিযোগ, এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে থাকা বড় কুশীলবদের আড়াল করার চেষ্টা করা হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে আদালত মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য সিআইডি-কে নির্দেশ দিয়েছেন।
রাবেয়া ইসলাম শম্পা বলেন, তাঁর কোলের সন্তান বড় হয়ে যেন জানতে পারে তাঁর বাবা দেশের জন্য জীবন দিয়েছেন এবং রাষ্ট্র সেই হত্যার বিচার নিশ্চিত করেছে। তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে এই মামলার স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের জোর দাবি জানান।
এদিকে, ইনকিলাব মঞ্চের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ওসমান হাদির খুনিরা ভারতের কলকাতায় অবস্থান করছে বলে গোয়েন্দা তথ্যে উঠে এসেছে। তাঁদের দ্রুত দেশে ফিরিয়ে এনে ফাঁসির কাষ্ঠে ঝোলানো না হওয়া পর্যন্ত রাজপথের আন্দোলন চলবে।
কেবল হাদির পরিবার নয়, বরং জুলাই বিপ্লবের পরবর্তী সময়ে এ ধরনের বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ড সাধারণ মানুষের মনে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। সচেতন মহলের মতে, ওসমান হাদির মতো একজন দেশপ্রেমিক কলম সৈনিকের হত্যার বিচার না হলে তা দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করবে।

