বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য বন্ধ থাকা মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার আবারও চালুর প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে এবং অভিবাসন ব্যয় কমানোর বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে।
মালয়েশিয়ার প্রশাসনিক রাজধানী পুত্রজায়ায় বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার প্রতিনিধিরা শ্রম অভিবাসন ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ, নৈতিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করার বিষয়ে একমত হন।
বৈঠকে উভয় পক্ষ মালয়েশিয়ার খাতভিত্তিক শ্রমচাহিদার ভিত্তিতে বাংলাদেশি কর্মীদের নিয়োগ প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু করার বিষয়ে আলোচনা করে। একই সঙ্গে মধ্যস্বত্বভোগী কমিয়ে নিয়োগব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়, যাতে অভিবাসন ব্যয় কমে আসে।
মালয়েশিয়ার পক্ষ থেকে জানানো হয়, তারা এআই-ভিত্তিক একটি ডিজিটাল নিয়োগ ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা করছে, যার মাধ্যমে নিয়োগ প্রক্রিয়া সহজ হবে এবং শ্রমিকদের খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাবে। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) ‘নিয়োগকর্তাই অর্থ প্রদান করবেন’ নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শ্রমিকদের জন্য ব্যয় শূন্য করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
বাংলাদেশের প্রতিনিধি দল এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে অন্যান্য শ্রমপ্রেরণকারী দেশকেও যুক্ত করে একটি বৈশ্বিক ডিজিটাল নিয়োগ প্ল্যাটফর্ম বাস্তবায়নে সমর্থন দেয়।
বৈঠকে মানবপাচার সংক্রান্ত আইনি বিষয়, আটকে থাকা শ্রমিকদের সমস্যা সমাধান, দক্ষতা উন্নয়ন, প্রশিক্ষণ ও তথ্য আদান-প্রদান বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়।
উভয় দেশ বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও শিক্ষা খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণের ওপরও গুরুত্ব দেয়। শিক্ষক বিনিময়সহ প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা জোরদার করার বিষয়েও মতৈক্য হয়।
বৈঠক শেষে যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও নিয়মিত শ্রম অভিবাসন নিশ্চিত করতে দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করবে। পাশাপাশি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দীর্ঘদিনের প্রতিবন্ধকতা দূর করে শ্রমবাজার পুনরায় চালুর পথ আরও সহজ করা হবে।
দুই দেশের কর্মকর্তারা বৈঠককে ফলপ্রসূ হিসেবে উল্লেখ করে ভবিষ্যতে নিয়মিত আলোচনার মাধ্যমে সহযোগিতা আরও বাড়ানোর প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

