রাবি প্রতিনিধি
হাদি হত্যা অপারেশনের ‘পরিকল্পনাকারী’ আলোচনায় প্রায় অনুপস্থিত বলে মন্তব্য করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাধারণ সম্পাদক সালাহউদ্দিন আম্মার। গতকাল রাতে নিজের ফেসবুক একাউন্টে এক পোস্টে তিনি এই মন্তব্য করেন।
রোববার (৮ মার্চ) ভারতের পশ্চিমবঙ্গ থেকে হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ও সন্দেহভাজন শুটার ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্কফোর্স (এসটিএফ) তাকে গ্রেপ্তার করেন। তাঁর সঙ্গে এই হত্যাকাণ্ডের আরেক অভিযুক্ত আলমগীর হোসেনকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এঘটনায় রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার তার ভেরিফাইড ফেসবুক একাউন্টে এক পোস্ট দেন। পোস্টে তিনি লেখেন, ‘শহীদ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ড নিয়ে আলোচনায় একটা বড় ভুল বারবার করা হচ্ছে খুনি আর শুটারকে এক করে ফেলা। অথচ এই দুইটা জিনিস এক না। বিষয়টা একটু পরিষ্কার করে দেখলে বোঝা যায় আসল প্রশ্নটা কোথায়।’
তিনি লেখেন, ‘প্রথমত কোনো হত্যাকাণ্ডে যে ট্রিগার টানে সে সবসময় প্রকৃত খুনি হয় না। সে হতে পারে একজন ভাড়াটে, একজন ব্যবহৃত মানুষ অথবা পুরো পরিকল্পনার সবচেয়ে নিচের স্তরের অংশগ্রহণকারী। কিন্তু হত্যার সিদ্ধান্ত কে নিয়েছে, পরিকল্পনা কে করেছে, নির্দেশ কে দিয়েছে প্রকৃত দায় সেখানেই।
শ্যুটারকে এ্যারেস্ট করার এই বয়ানের ভেতরে কি সত্যিই হত্যার মূল পরিকল্পনাকারীর কোনো আলোচনা আছে?’
মূল পরিকল্পনাকারী আলোচনার বাইরে উল্লেখ করে আম্মার লেখেন, ‘হাদির খুনি সেই ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যে হত্যার হুকুম দিয়েছে, যে পুরো অপারেশনের পরিকল্পনা করেছে,যে জানত কেন এই হত্যা দরকার। অদ্ভুত বিষয় হলো এই জায়গাটাই পুরো আলোচনায় প্রায় অনুপস্থিত। মিডিয়া, রাজনৈতিক বক্তব্য কিংবা সরকারি বয়ান কোথাও খুব স্পষ্টভাবে হুকুমদাতা বা মাস্টারমাইন্ড নিয়ে কোনো বাস্তব অনুসন্ধান বা অনুমানও নেই।’
জিএস আম্মার লেখেন, ‘তাই আসল প্রশ্নটা এখনো অমীমাংসিতই রয়ে গেছে। হাদির শুটার কে এই প্রশ্নের চেয়ে বড় প্রশ্ন হলো হাদির হত্যার হুকুমদাতা কে? পরিকল্পনাকারী কে?কার স্বার্থে এই হত্যা ঘটানো হয়েছিল? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর ছাড়া কোনো তদন্তই পূর্ণ হয় না। আর সেই উত্তরগুলোর জন্যই শ্যুটারদের জীবিত দেশে ফেরত এনে হাদিকে কোন স্ট্যাবলিশমেন্টের জন্য খুন হতে হলো এটা সামনে আনা জরুরী।’

