ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের মূল উদ্দেশ্য নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো বারবার অভিযোগ করেছেন, ওয়াশিংটন তার সরকার উৎখাত করে দেশের বিপুল তেলসম্পদ দখল করতে চায়। এবার যুক্তরাষ্ট্রের ভেতর থেকে এই দাবি সমর্থন করছেন জ্বালানি খাতের বিশেষজ্ঞরা।
ভেনেজুয়েলার তেল খাত বিশ্লেষক অ্যান্ড্রু লিপো মনে করেন, ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্য স্পষ্ট করে দিয়েছে যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপ মূলত তেলকেন্দ্রিক। তিনি আল জাজিরাকে বলেছেন, “ট্রাম্পের বক্তব্য ইঙ্গিত দিচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের এই অভিযান ‘সবকিছুই তেলের জন্য’।”
লিপো আরও বলেছেন, মাদক পাচারের অভিযোগও অনেকাংশে বিতর্কিত। ভেনেজুয়েলা দিয়ে কতটা কোকেন বা ফেন্টানিল আসছে, তা পরিষ্কার নয়। এছাড়া দেশটির তেল উৎপাদন ব্যবস্থা নাজুক অবস্থায় রয়েছে। ৩০ বছর আগে দৈনিক উৎপাদন ছিল ৩০ লাখ ব্যারেলের বেশি, এখন তা এক মিলিয়নের নিচে। উৎপাদন ধরে রাখতে বিশাল বিনিয়োগের প্রয়োজন হলেও অনিশ্চয়তার কারণে তা সহজ নয়।
এদিকে নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলায় ভেনেজুয়েলায় অন্তত ৪০ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে বেসামরিক নাগরিক ও সামরিক সদস্য দু’পক্ষই রয়েছেন। একইসঙ্গে কারাকাসের একটি তিনতলা আবাসিক ভবন সরাসরি বিমান হামলায় আঘাতপ্রাপ্ত হয়। এতে ৮০ বছর বয়সী রোসা গঞ্জালেস এবং তার পরিবারের সদস্যরা নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও একজন।
হামলার কারণে স্থানীয়রা ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। রোসা গঞ্জালেসের ভাতিজা উইলমান গঞ্জালেস জানিয়েছেন, বাড়ি হারানোর পর তিনি কোথায় যাবেন তা জানেন না। একইভাবে ৭০ বছর বয়সী প্রতিবেশী জর্জ জানিয়েছেন, বিমান হামলায় তিনি তার ‘সবকিছু’ হারিয়েছেন।
