ভেনেজুয়েলার ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেস মার্কিন বিশেষ বাহিনীর অভিযানের সময় পালাতে গিয়ে নিজেদের বাসভবনের একটি নিরাপদ কক্ষে লুকানোর চেষ্টা করেন। সে সময় অসাবধানতায় মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত পান তারা দুজনই।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) মার্কিন আইনপ্রণেতাদের সঙ্গে এক রুদ্ধদ্বার ব্রিফিংয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এ তথ্য জানান। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, কারাকাসে পরিচালিত অভিযানের সময় মাদুরো ও তার স্ত্রী একটি ভারী স্টিলের দরজার আড়ালে আশ্রয় নিতে গিয়ে দরজার নিচু ফ্রেমে সজোরে ধাক্কা খান। দ্রুত ভেতরে ঢুকতে গিয়ে উভয়ের মাথায় আঘাত লাগে এবং রক্তপাত হয়।
এনবিসি নিউজ ও সিএনএন-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন ডেল্টা ফোর্সের সদস্যরা তাদের নাগালে পৌঁছানোর আগেই কক্ষের দেয়াল বা দরজার সঙ্গে ধাক্কা লেগে এই আঘাতের ঘটনা ঘটে।
সোমবার নিউইয়র্কের একটি ফেডারেল আদালতে হাজির করার সময় মাদুরো ও ফ্লোরেসের শরীরে দৃশ্যমান আঘাতের চিহ্ন লক্ষ্য করা যায়। আদালত কক্ষের স্কেচে সিলিয়া ফ্লোরেসের মাথায় ব্যান্ডেজ দেখা গেছে এবং তার মুখে কালশিটে দাগ স্পষ্ট ছিল। ফ্লোরেসের আইনজীবী দাবি করেছেন, তার মক্কেলের পাঁজরের হাড় ভেঙে যেতে পারে এবং শুনানির সময় তাকে একাধিকবার মাথা নিচু করে ঝিমুনি দিতে দেখা গেছে।
অন্যদিকে মাদুরোকেও বসা ও দাঁড়ানোর সময় স্পষ্ট কষ্টে থাকতে দেখা যায়। তবে মার্কিন কর্মকর্তারা এসব আঘাতকে ‘গুরুতর নয়’ বলে বর্ণনা করেছেন। আদালতে হাজির হয়ে মাদুরো স্প্যানিশ ভাষায় বিচারককে বলেন, তাকে অপহরণ করা হয়েছে এবং তিনি একজন ‘যুদ্ধবন্দি’। বর্তমানে মাদুরো ও তার স্ত্রী মার্কিন ফেডারেল হেফাজতে রয়েছেন। তাদের আইনজীবীরা পূর্ণাঙ্গ শারীরিক পরীক্ষার আবেদন জানিয়েছেন।
মার্কিন জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান ড্যান কেইন জানান, শনিবার স্থানীয় সময় রাত ১টার দিকে মার্কিন বিশেষ বাহিনী মাদুরোর বাসভবনে অতর্কিত অভিযান চালায়। দম্পতিটি যে কক্ষে লুকিয়ে ছিলেন, সেখানে প্রবেশের সময় বাহিনী ‘ফ্ল্যাশ ব্যাং’ নামে তীব্র আলো ও শব্দ উৎপাদনকারী বিশেষ বিস্ফোরক ব্যবহার করে। ধারণা করা হচ্ছে, ওই মুহূর্তে দিশেহারা হয়ে পালানোর চেষ্টার সময়ই তারা আঘাতপ্রাপ্ত হন।
এই অভিযানে মাদুরোর নিরাপত্তায় নিয়োজিত কিউবান বাহিনীর সঙ্গে ব্যাপক গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ৩২ জন কিউবান যোদ্ধা নিহত হন বলে জানা গেছে। অভিযানে অংশ নেওয়া প্রায় ২০০ মার্কিন সেনার মধ্যে কয়েকজন ডেল্টা ফোর্স সদস্য গুলি ও স্প্লিন্টারের আঘাতে আহত হলেও তাদের আঘাত প্রাণঘাতী নয়।
মার্কিন কর্মকর্তারা জোর দিয়ে বলেছেন, এই অভিযান কোনো ‘শাসন পরিবর্তন’ বা রেজিম চেঞ্জ অপারেশন নয়। তাদের দাবি, ভেনেজুয়েলার সরকারি কাঠামো এখনো অক্ষত রয়েছে। বর্তমানে দেশটির নেতৃত্বে রয়েছেন মাদুরোর ডেপুটি ডেলসি রদ্রিগেজ। ওয়াশিংটন তার সঙ্গে ইতিবাচক ও বাস্তবসম্মত সম্পর্ক বজায় রাখার আশাবাদ ব্যক্ত করেছে, বিশেষ করে ভেনেজুয়েলার তেল অবকাঠামো পুনর্গঠন ও মার্কিন কোম্পানিগুলোর কার্যক্রম পুনরায় শুরুর বিষয়ে।
ট্রাম্প প্রশাসন সিআইএ-এর একটি শ্রেণিবদ্ধ বিশ্লেষণের ভিত্তিতে রদ্রিগেজের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রাখার কৌশল নিয়েছে বলে জানা গেছে। মাদক পাচার ও ষড়যন্ত্রের অভিযোগে অভিযুক্ত মাদুরো দম্পতির এই আটক ভেনেজুয়েলা ও যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক দ্বন্দ্বকে আরও তীব্র ও উত্তেজনাকর পর্যায়ে নিয়ে গেছে।
