মুহাম্মদ মহসিন আলী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া:
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় এলপিজি (তরল পেট্রোলিয়াম গ্যাস) বোতলজাত গ্যাসের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি ও যুদ্ধের অজুহাত দেখিয়ে ব্যবসায়ীরা গ্যাসের দাম বাড়ালেও এর কোনো কার্যকর নিয়ন্ত্রণ দেখা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ ভোক্তাদের।
জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও বাজার ঘুরে দেখা গেছে, নির্ধারিত দামের চেয়ে অনেক বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে এলপিজি সিলিন্ডার। ১২ কেজির একটি সিলিন্ডার যেখানে নির্ধারিত দামে বিক্রি হওয়ার কথা, সেখানে তা ২০০ থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছে। এতে বিপাকে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষজন।
ভোক্তাদের অভিযোগ, “যুদ্ধের দোহাই দিয়ে ব্যবসায়ীরা ইচ্ছামতো দাম বাড়াচ্ছে। কিন্তু দেখার যেন কেউ নেই।” অনেকেই বলছেন, বাজারে তদারকি না থাকায় এক ধরনের অরাজক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
শহরের বিভিন্ন ডিলার ও খুচরা বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সরবরাহ কমে যাওয়ার অজুহাত দেখিয়ে তারা বাড়তি দামে গ্যাস বিক্রি করছেন। তবে ভোক্তারা বলছেন, প্রকৃতপক্ষে কোনো সংকট নেই—বরং কৃত্রিম সংকট তৈরি করে অতিরিক্ত মুনাফা আদায় করা হচ্ছে।
সদর, আশুগঞ্জ, বিজয়নগরসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় একই চিত্র দেখা গেছে। অনেক খুচরা দোকানে প্রকাশ্যেই বেশি দামে গ্যাস বিক্রি করা হলেও প্রশাসনের তেমন কোনো কার্যকর পদক্ষেপ চোখে পড়ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে।
একজন গৃহিণী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “প্রতিদিনের রান্নার জন্য গ্যাস কিনতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে। অতিরিক্ত টাকা দিয়ে গ্যাস কিনতে হচ্ছে, না কিনলে রান্না বন্ধ।”
এদিকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছে, বাজার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রয়েছে এবং অতিরিক্ত দামে বিক্রির অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে সচেতন মহলের দাবি, শুধু আশ্বাস নয়—নিয়মিত বাজার মনিটরিং, ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।

