সাইফুল ইসলাম, বাউফল প্রতিনিধি
পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার বগা ইউনিয়নের কায়না ও কৌখালী গ্রামে সরকারি ভাড়ানি খালের ১১টি স্থানে বাঁধ দিয়েছেন স্থানীয় প্রভাবশালীরা। এতে কৃষিজমিতে সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা। অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে প্রায় এক হাজার হেক্টর জমিতে রোপা আমন ধানের চারা রোপণ।
কৃষকরা জানান, সরকারি খালে বাঁধ দিয়ে পুকুর ও ঘের তৈরি করে মাছ চাষ করছেন বগা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মাহমুদ হাসান হাওলাদারসহ স্থানীয় প্রভাবশালীরা। খালটি একসময় লোহালিয়া নদীর সঙ্গে যুক্ত থাকায় কৃষকরা জোয়ার-ভাটার পানি ব্যবহার করতেন। তারা মাছ ধরে পরিবারের পুষ্টির চাহিদাও মেটাতেন। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে বাঁধ দেওয়ার কারণে অতিবৃষ্টির পানি জমে ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে আমন চাষ বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে।
কৃষকদের অভিযোগ, বিগত সরকারের সময় বগা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান হাসান হাওলাদার খালটিতে বাঁধ দিয়ে বিভিন্ন সমিতির নামে মাছ চাষ করেছিলেন। বর্তমানে ওই খালের বিভিন্ন স্থানে ১১টি বাঁধ দেওয়ায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। বাঁধ অপসারণে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ না থাকায় পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ আকার ধারণ করছে।
কায়না গ্রামের কৃষক দেলোয়ার হাওলাদার বলেন, আমরা পাঁচ মাস আগে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন করেছিলাম, কিন্তু কোনো ফল হয়নি। এখন জমিতে হাঁটুপানি। আমন ধানের চারা রোপণ করার মতো কোনো অবস্থা নেই। তারা জানান, ভাদ্র মাস শেষ হতে চলেছে। কিন্তু এখনো জমি পানিতে তলিয়ে রয়েছে। যদি আমনের বীজ বপন করা না যায়, তাহলে বড় ধরনের অর্থনৈতিক ক্ষতির মধ্যে পড়তে হবে।

