ব্রিটিশ নাগরিকদের বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে অত্যন্ত সতর্ক অবস্থানে রয়েছে দেশটির সরকার। যুক্তরাজ্যের ফরেন, কমনওয়েলথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিস (FCDO) সম্প্রতি বিশ্বের ৪৭টি দেশের একটি তালিকা হালনাগাদ করেছে, যেখানে ব্রিটিশ নাগরিকদের ভ্রমণে আংশিক বা সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, যুক্তরাজ্যের এই ‘বিপজ্জনক’ বা ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ দেশের তালিকায় বাংলাদেশের নাম নেই।
সতর্কবার্তার মূল কারণসমূহ
১৩ মার্চ, ২০২৬ তারিখের সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, এই ৪৭টি দেশে ব্রিটিশ নাগরিকদের জন্য উচ্চ ঝুঁকি রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। এই ঝুঁকির পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে রয়েছে:
- চলমান যুদ্ধ ও সশস্ত্র সংঘাত।
- সন্ত্রাসবাদ ও অপহরণের হুমকি।
- মানবিক সংকট এবং অস্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিস্থিতি।
- বিদেশি নাগরিকদের বিনা কারণে আটকে রাখা বা গ্রেফতারের ঝুঁকি।
পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা ও উচ্চ ঝুঁকির দেশগুলো
তালিকায় থাকা বেশ কিছু দেশে ব্রিটিশ নাগরিকদের একেবারেই ভ্রমণ না করতে অথবা অবিলম্বে দেশ ত্যাগের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই তালিকায় রয়েছে:
আফগানিস্তান, বেলারুশ, হাইতি, মালি, নাইজার, ফিলিস্তিন, রাশিয়া, দক্ষিণ সুদান, সিরিয়া ও ইয়েমেন। বিশেষ করে রাশিয়া ও বেলারুশে ব্রিটিশ নাগরিকদের রাজনৈতিক কারণে গ্রেফতার হওয়ার ‘তীব্র ঝুঁকি’ রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
আংশিক নিষেধাজ্ঞা বা নির্দিষ্ট এলাকায় সতর্কতা
৪৭টি দেশের মধ্যে অনেকগুলো দেশে শুধুমাত্র নির্দিষ্ট কিছু অঞ্চলে যেতে নিষেধ করা হয়েছে। যেমন:
ভারত ও পাকিস্তান: সীমান্ত সংলগ্ন এলাকা এবং কাশ্মীর অঞ্চল।
মিশর ও তুরস্ক: সিরিয়া ও লিবিয়া সীমান্ত সংলগ্ন এলাকা।
থাইল্যান্ড ও ফিলিপাইন: দক্ষিণ ও পশ্চিমাঞ্চলের নির্দিষ্ট কিছু দ্বীপ ও এলাকা।
এছাড়াও আলজেরিয়া, ইথিওপিয়া, কেনিয়া এবং ইউক্রেনের বিশাল অংশে ভ্রমণে সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
বাংলাদেশের অবস্থান
যুক্তরাজ্যের ফরেন অফিসের এই তালিকায় দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশ যেমন ভারত বা পাকিস্তানের নির্দিষ্ট অংশের নাম থাকলেও, বাংলাদেশের নাম কোনো ঝুঁকিপূর্ণ ক্যাটাগরিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। এর অর্থ হলো, ব্রিটিশ সরকারের মূল্যায়ন অনুযায়ী বাংলাদেশে ব্রিটিশ নাগরিকদের জন্য এই মুহূর্তে কোনো বিশেষ নিরাপত্তা সতর্কতা বা ভ্রমণের ওপর কড়াকড়ি নেই। পর্যটন ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এটি একটি ইতিবাচক সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

