ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জুলাই সনদ নিয়ে বহুল প্রতীক্ষিত গণভোটের আর মাত্র ১০ দিন বাকি। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর এই মহাযজ্ঞকে ঘিরে সারাদেশের মতো রাষ্ট্রের প্রধান প্রশাসনিক কেন্দ্রবিন্দু সচিবালয়েও বইছে নির্বাচনি হাওয়া। তবে কাজের ব্যস্ততায় নয়, বরং আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এখন ‘ভোটের হিসাব-নিকাশ’ আর ‘নতুন সরকার’।
গত কয়েক দিন সচিবালয়ের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ঘুরে দেখা গেছে, নীতি-নির্ধারণী সিদ্ধান্তগুলো এখন নির্বাচন কমিশনের হাতে থাকায় দাপ্তরিক কাজে এক ধরণের স্থবিরতা বিরাজ করছে। জনপ্রশাসন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বাদে অন্যান্য দপ্তরে কর্মকর্তাদের ব্যস্ততা নেই বললেই চলে।
তদবির বন্ধ: বদলি বা রদবদল স্থগিত থাকায় দর্শনার্থীদের ভিড় নেই। রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা নির্বাচনি প্রচারণায় ব্যস্ত থাকায় প্রশাসন পাড়া এখন অনেকটাই জনশূন্য। অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারীকে দাপ্তরিক কাজের চেয়ে নিজেদের মধ্যে ভোটের ফলাফল ও নতুন সরকারের প্রশাসনিক কাঠামো নিয়ে আলাপ করতে দেখা গেছে।
২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে সচিবালয়ে যে কর্মতত্পরতা ও রদবদলের হিড়িক ছিল, বর্তমানে তার ঠিক বিপরীত চিত্র দেখা যাচ্ছে। একাধিক প্রশাসনিক কর্মকর্তা জানান, এখন সবাই শুধু রুটিন মাফিক অফিস করছেন। অনেকের নজর এখন সম্ভাব্য ক্ষমতাসীনদের দিকে। কর্মকর্তাদের একাংশ নিজেদের পদ টিকিয়ে রাখতে বা ভালো অবস্থানে যেতে যোগাযোগ রক্ষা করছেন বলেও গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে।
প্রশাসনিক এই স্থবিরতাকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন না জনপ্রশাসন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, আমলাতন্ত্রের কাজ হওয়া উচিত নিরবচ্ছিন্ন।
“নির্বাচনের অজুহাতে নিয়মিত কাজে গাফিলতির সুযোগ নেই। সরকার আসবে-যাবে, কিন্তু প্রশাসনের চাকা সচল থাকা উচিত। কর্মকর্তারা সঠিক সময়ে অফিসে আসবেন এবং ঝুলে থাকা ফাইলগুলো নিষ্পত্তি করবেন— এটাই প্রত্যাশিত।”
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি দেশের ৩০০টি সংসদীয় আসনে সরাসরি ভোটগ্রহণের পাশাপাশি ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বাস্তবায়নে একটি সাংবিধানিক গণভোটও অনুষ্ঠিত হবে। ১২ কোটি ৭৬ লাখের বেশি ভোটার এই প্রক্রিয়ায় অংশ নেবেন, যা ২০২৬ সালের অন্যতম বৃহৎ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

