Bangla FM
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • বিশ্ব
  • সারাদেশ
  • বিনোদন
  • খেলাধুলা
  • কলাম
  • ভিডিও
  • অর্থনীতি
  • ক্যাম্পাস
  • আইন ও আদালত
  • প্রবাস
  • বিজ্ঞান প্রযুক্তি
  • মতামত
  • লাইফস্টাইল
No Result
View All Result
Bangla FM

কিংবদন্তির কবি আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ : কবিতা, সংগ্রাম ও রাষ্ট্রচিন্তার এক বিরল সমন্বয়

Bangla FM OnlinebyBangla FM Online
১২:৪১ pm ০৮, ফেব্রুয়ারী ২০২৬
in Semi Lead News, কলাম
A A
0

সৈয়দ আমিরুজ্জামান:

“আমি আমার পূর্বপুরুষের কথা বলছি।
তাঁর করতলে পলিমাটির সৌরভ ছিল
তাঁর পিঠে রক্তজবার মত ক্ষত ছিল।
তিনি অতিক্রান্ত পাহাড়ের কথা বলতেন
অরণ্য এবং শ্বাপদের কথা বলতেন
পতিত জমি আবাদের কথা বলতেন
তিনি কবি এবং কবিতার কথা বলতেন।
জিহ্বায় উচ্চারিত প্রতিটি সত্য শব্দ কবিতা,
কর্ষিত জমির প্রতিটি শস্যদানা কবিতা।
যে কবিতা শুনতে জানে না
সে ঝড়ের আর্তনাদ শুনবে।
যে কবিতা শুনতে জানে না
সে দিগন্তের অধিকার থেকে বঞ্চিত হবে।
যে কবিতা শুনতে জানে না
সে আজন্ম ক্রীতদাস থেকে যাবে।
আমি উচ্চারিত সত্যের মতো
স্বপ্নের কথা বলছি।
উনুনের আগুনে আলোকিত
একটি উজ্জ্বল জানালার কথা বলছি।
আমি আমার মা’য়ের কথা বলছি,
তিনি বলতেন প্রবহমান নদী
যে সাতার জানে না তাকেও ভাসিয়ে রাখে।
যে কবিতা শুনতে জানে না
সে নদীতে ভাসতে পারে না।
যে কবিতা শুনতে জানে না
সে মাছের সঙ্গে খেলা করতে পারে না।
যে কবিতা শুনতে জানে না
সে মা’য়ের কোলে শুয়ে গল্প শুনতে পারে না
আমি কিংবদন্তির কথা বলছি
আমি আমার পূর্বপুরুষের কথা বলছি।
আমি বিচলিত স্নেহের কথা বলছি
গর্ভবতী বোনের মৃত্যুর কথা বলছি
আমি আমার ভালোবাসার কথা বলছি।
ভালোবাসা দিলে মা মরে যায়
যুদ্ধ আসে ভালোবেসে
মা’য়ের ছেলেরা চলে যায়,
আমি আমার ভাইয়ের কথা বলছি।
যে কবিতা শুনতে জানে না
সে সন্তানের জন্য মরতে পারে না।
যে কবিতা শুনতে জানে না
সে ভালোবেসে যুদ্ধে যেতে পারে না।
যে কবিতা শুনতে জানে না
সে সূর্যকে হৃদপিন্ডে ধরে রাখতে পারে না।
আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি
আমি আমার পূর্ব পুরুষের কথা বলছি
তাঁর পিঠে রক্তজবার মত ক্ষত ছিল
কারণ তিনি ক্রীতদাস ছিলেন।
আমরা কি তা’র মতো কবিতার কথা বলতে পারবো,
আমরা কি তা’র মতো স্বাধীনতার কথা বলতে পারবো!
তিনি মৃত্তিকার গভীরে
কর্ষণের কথা বলতেন
অবগাহিত ক্ষেত্রে
পরিচ্ছন্ন বীজ বপনের কথা বলতেন
সবত্সা গাভীর মত
দুগ্ধবতী শস্যের পরিচর্যার কথা বলতেন
তিনি কবি এবং কবিতার কথা বলতেন।
যে কর্ষণ করে তাঁর প্রতিটি স্বেদবিন্দু কবিতা
কর্ষিত জমির প্রতিটি শস্যদানা কবিতা।
যে কবিতা শুনতে জানে না
শস্যহীন প্রান্তর তাকে পরিহাস করবে।
যে কবিতা শুনতে জানে না
সে মাতৃস্তন্য থেকে বঞ্চিত হবে।
যে কবিতা শুনতে জানে না
সে আজন্ম ক্ষুধার্ত থেকে যাবে।
যখন প্রবঞ্চক ভূস্বামীর প্রচন্ড দাবদাহ
আমাদের শস্যকে বিপর্যস্ত করলো
তখন আমরা শ্রাবণের মেঘের মত
যূথবদ্ধ হলাম।
বর্ষণের স্নিগ্ধ প্রলেপে
মৃত মৃত্তিকাকে সঞ্জীবিত করলাম।
বারিসিক্ত ভূমিতে
পরিচ্ছন্ন বীজ বপন করলাম।
সুগঠিত স্বেদবিন্দুর মত
শস্যের সৌকর্য অবলোকন করলাম,
এবং এক অবিশ্বাস্য আঘ্রাণ
আনিঃশ্বাস গ্রহণ করলাম।
তখন বিষসর্প প্রভুগণ
অন্ধকার গহ্বরে প্রবেশ করলো
এবং আমরা ঘন সন্নিবিষ্ট তাম্রলিপির মত
রৌদ্রালোকে উদ্ভাসিত হলাম।
তখন আমরা সমবেত কন্ঠে
কবিতাকে ধারণ করলাম।
দিগন্ত বিদীর্ণ করা বজ্রের উদ্ভাসন কবিতা
রক্তজবার মত প্রতিরোধের উচ্চারণ কবিতা।
যে কবিতা শুনতে জানে না
পরভৃতের গ্লানি তাকে ভূলুন্ঠিত করবে।
যে কবিতা শুনতে জানে না
অভ্যূত্থানের জলোচ্ছ্বাস তাকে নতজানু করবে।
যে কবিতা শুনতে জানে না
পলিমাটির সৌরভ তাকে পরিত্যাগ করবে।
আমি কিংবদন্তির কথা বলছি
আমি আমার পূর্বপুরুষের কথা বলছি।
তিনি স্বপ্নের মত সত্য ভাষণের কথা বলতেন
সুপ্রাচীন সংগীতের আশ্চর্য ব্যাপ্তির কথা বলতেন
তিনি কবি এবং কবিতার কথা বলতেন।
যখন কবিকে হত্যা করা হল
তখন আমরা নদী এবং সমুদ্রের মোহনার মত
সৌভ্রত্রে সম্মিলিত হলাম।
প্রজ্জ্বলিত সূর্যের মত অগ্নিগর্ভ হলাম।
ক্ষিপ্রগতি বিদ্যুতের মত
ত্রিভূবন পরিভ্রমণ করলাম।
এবং হিংস্র ঘাতক নতজানু হয়ে
কবিতার কাছে প্রাণভিক্ষা চাইলো।
তখন আমরা দুঃখকে ক্রোধ
এবং ক্রোধকে আনন্দিত করলাম।
নদী এবং সমুদ্রে মোহনার মত
সম্মিলিত কন্ঠস্বর কবিতা
অবদমিত ক্রোধের আনন্দিত উৎসারণ কবিতা।
যে কবিতা শুনতে জানে না
সে তরঙ্গের সৌহার্দ থেকে বঞ্চিত হবে।
যে কবিতা শুনতে জানে না
নিঃসঙ্গ বিষাদ তাকে অভিশপ্ত করবে।
যে কবিতা শুনতে জানে না
সে মূক ও বধির থেকে যাবে।
আমি কিংবদন্তির কথা বলছি
আমি আমার পূর্বপুরুষের কথা বলছি।
তাঁর পিঠে রক্তজবার মত ক্ষত ছিল
আমি একগুচ্ছ রক্তজবার কথা বলছি।
আমি জলোচ্ছ্বাসের মত
অভ্যূত্থানের কথা বলছি
উত্ক্ষিপ্ত নক্ষত্রের মত
কমলের চোখের কথা বলছি
প্রস্ফুটিত পুষ্পের মত
সহস্র ক্ষতের কথা বলছি
আমি নিরুদ্দিষ্ট সন্তানের জননীর কথা বলছি
আমি বহ্নমান মৃত্যু
এবং স্বাধীনতার কথা বলছি।
যখন রাজশক্তি আমাদের আঘাত করলো
তখন আমরা প্রাচীণ সংগীতের মত
ঋজু এবং সংহত হলাম।
পর্বত শৃংগের মত
মহাকাশকে স্পর্শ করলাম।
দিকচক্রবালের মত
দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হলাম;
এবং শ্বেত সন্ত্রাসকে
সমূলে উত্পাটিত করলাম।
তখন আমরা নক্ষত্রপুঞ্জের মত
উজ্জ্বল এবং প্রশান্ত হলাম।
উত্ক্ষিপ্ত নক্ষত্রের প্রস্ফুটিত ক্ষতচিহ্ন কবিতা
স্পর্ধিত মধ্যাহ্নের আলোকিত উম্মোচন কবিতা।
যে কবিতা শুনতে জানে না
সে নীলিমাকে স্পর্শ করতে পারে না।
যে কবিতা শুনতে জানে না
সে মধ্যাহ্নের প্রত্যয়ে প্রদীপ্ত হতে পারে না।
যে কবিতা শুনতে জানে না
সে সন্ত্রাসের প্রতিহত করতে পারে না।
আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি
আমি আমার পূর্বপুরুষের কথা বলছি।
আমি শ্রমজীবী মানুষের
উদ্বেল অভিযাত্রার কথা বলছি
আদিবাস অরণ্যের
অনার্য সংহতির কথা বলছি
শৃংখলিত বৃক্ষের
উর্দ্ধমুখী অহংকারের কথা বলছি,
আমি অতীত এবং সমকালের কথা বলছি।
শৃংখলিত বৃক্ষের উর্দ্ধমুখী অহংকার কবিতা
আদিবাস অরণ্যের অনার্য সংহতি কবিতা।
যে কবিতা শুনতে জানে না
যূথভ্রষ্ট বিশৃংখলা তাকে বিপর্যস্ত করবে।
যে কবিতা শুনতে জানে না
বিভ্রান্ত অবক্ষয় তাকে দৃষ্টিহীন করবে।
যে কবিতা শুনতে জানে না
সে আজন্ম হীনমন্য থেকে যাবে।
যখন আমরা নগরীতে প্রবেশ করলাম
তখন চতুর্দিকে ক্ষুধা।
নিঃসঙ্গ মৃত্তিকা শস্যহীন
ফলবতী বৃক্ষরাজি নিস্ফল
এবং ভাসমান ভূখন্ডের মত
ছিন্নমূল মানুষেরা ক্ষুধার্ত।
যখন আমরা নগরীতে প্রবেশ করলাম
তখন আদিগন্ত বিশৃংখলা।
নিরুদ্দিষ্ট সন্তানের জননী শোকসন্তপ্ত
দীর্ঘদেহ পুত্রগণ বিভ্রান্ত
এবং রক্তবর্ণ কমলের মত
বিস্ফোরিত নেত্র দৃষ্টিহীন।
তখন আমরা পূর্বপুরুষকে
স্মরণ করলাম।
প্রপিতামহের বীর গাঁথা
স্মরণ করলাম।
আদিবাসী অরণ্য এবং নতজানু শ্বাপদের কথা
স্মরণ করলাম।
তখন আমরা পর্বতের মত অবিচল
এবং ধ্রুবনক্ষত্রের মত স্থির লক্ষ্য হলাম।
আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি
আমি আমার পূর্বপুরুষের কথা বলছি।
আমি স্থির লক্ষ্য মানুষের
সশস্ত্র অভ্যুত্থানের কথা বলছি
শ্রেণীযুদ্ধের অলিন্দে
ইতিহাসের বিচরণের কথা বলছি
আমি ইতিহাস এবং স্বপ্নের কথা বলছি।
স্বপ্নের মত সত্যভাষণ ইতিহাস
ইতিহাসের আনন্দিত অভিজ্ঞান কবিতা
যে বিনিদ্র সে স্বপ্ন দেখতে পারে না
যে অসুখী সে কবিতা লিখতে পারে না।
যে উদ্গত অংকুরের মত আনন্দিত
সে কবি
যে সত্যের মত স্বপ্নভাবী
সে কবি
যখন মানুষ মানুষকে ভালবাসবে
তখন প্রত্যেকে কবি।
আমি কিংবদন্তির কথা বলছি
আমি আমার পূর্বপুরুষের কথা বলছি।
আমি বিচলিত বর্তমান
এবং অন্তিম সংগ্রামের কথা বলছি।
খন্ডযুদ্ধের বিরতিতে
আমরা ভূমি কর্ষণ করেছি।
হত্যা এবং ঘাতকের সংকীর্ণ ছায়াপথে
পরিচ্ছন্ন বীজ বপন করেছি।
এবং প্রবহমান নদীর সুকুমার দাক্ষিণ্যে
শস্যের পরিচর্যা করছি।
আমাদের মুখাবয়ব অসুন্দর
কারণ বিকৃতির প্রতি ঘৃণা
মানুষকে কুশ্রী করে দ্যায়।
আমাদের কণ্ঠস্বর রূঢ়
কারণ অন্যায়ের বিরুদ্ধে ক্ষোভ
কণ্ঠকে কর্কশ করে তোলে।
আমাদের পৃষ্ঠদেশে নাক্ষত্রিক ক্ষতচিহ্ন
কারণ উচ্চারিত শব্দ আশ্চর্য বিশ্বাসঘাতক
আমাদেরকে বারবার বধ্যভূমিতে উপনীত করেছে।
আমি কিংবদন্তির কথা বলছি
আমি আমার পূর্বপুরুষের কথা বলছি।
আমার সন্তানেরা
আমি তোমাদের বলছি।
যেদিন প্রতিটি উচ্চারিত শব্দ
সূর্যের মত সত্য হবে
সেই ভবিষ্যতের কথা বলছি,
সেই ভবিষ্যতের কবিতার কথা বলছি।
আমি বিষসর্প প্রভুদের
চির প্রয়াণের কথা বলছি
দ্বন্দ্ব এবং বিরোধের
পরিসমাপ্তির কথা বলছি
সুতীব্র ঘৃণার
চূড়ান্ত অবসানের কথা বলছি।
আমি সুপুরুষ ভালবাসার
সুকণ্ঠ সংগীতের কথা বলছি।
যে কর্ষণ করে
শস্যের সম্ভার তাকে সমৃদ্ধ করবে।
যে মত্স্য লালন করে
প্রবহমান নদী তাকে পুরস্কৃত করবে।
যে গাভীর পরিচর্যা করে
জননীর আশীর্বাদ তাকে দীর্ঘায়ু করবে।
যে লৌহখন্ডকে প্রজ্জ্বলিত করে
ইস্পাতের তরবারি তাকে সশস্ত্র করবে।
দীর্ঘদেহ পুত্রগণ
আমি তোমাদের বলছি।
আমি আমার মায়ের কথা বলছি
বোনের মৃত্যুর কথা বলছি
ভাইয়ের যুদ্ধের কথা বলছি
আমি আমার ভালবাসার কথা বলছি।
আমি কবি এবং কবিতার কথা বলছি।
সশস্ত্র সুন্দরের অনিবার্য অভ্যুত্থান কবিতা
সুপুরুষ ভালবাসার সুকণ্ঠ সংগীত কবিতা
জিহ্বায় উচ্চারিত প্রতিটি মুক্ত শব্দ কবিতা
রক্তজবার মতো প্রতিরোধের উচ্চারণ কবিতা।
আমরা কি তাঁর মত কবিতার কথা বলতে পারবো
আমরা কি তাঁর মত স্বাধীনতার কথা বলতে পারবো?”
-(আমি কিংবদন্তির কথা বলছি – আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ)

বাংলা কবিতায় এমন কিছু নাম আছে, যাদের উচ্চারণেই কেবল একজন কবিকে নয়—একটি সময়, একটি সংগ্রাম, একটি জাতির আত্মপরিচয়কে স্মরণ করতে হয়। আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ তেমনই এক কবি—যিনি কবিতাকে কেবল শিল্পের ভাষা হিসেবে নয়, ইতিহাসের দলিল, সংগ্রামের শপথ এবং ভবিষ্যতের স্বপ্ন হিসেবে নির্মাণ করেছিলেন। তাঁর ‘আমি কিংবদন্তির কথা বলছি’ বাংলা কবিতার ইতিহাসে শুধু একটি দীর্ঘ কবিতা নয়; এটি এক প্রকার ঘোষণাপত্র—যেখানে কবিতা, মানুষ, ভূমি, শ্রম, ভালোবাসা ও স্বাধীনতা একাকার হয়ে গেছে।

পূর্বপুরুষের কণ্ঠে ইতিহাস

“আমি আমার পূর্বপুরুষের কথা বলছি”—এই উচ্চারণে শুরু হওয়া কবিতাটি ক্রমে রূপ নেয় সামষ্টিক ইতিহাসের ভাষ্যে। এখানে ‘পূর্বপুরুষ’ কোনো একক ব্যক্তি নন; তিনি কৃষক, শ্রমিক, আদিবাসী, দাসত্বে জর্জরিত মানুষ—যাদের ঘাম, রক্ত ও স্বপ্নে সভ্যতা নির্মিত হয়েছে। আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ পূর্বপুরুষের পিঠে রক্তজবার মতো ক্ষতের কথা বলেন, কারণ ইতিহাসের প্রতিটি যুগেই শোষণ ও প্রতিরোধ পাশাপাশি হেঁটেছে। তাঁর কবিতায় কর্ষিত জমির প্রতিটি শস্যদানা কবিতা হয়ে ওঠে, কারণ উৎপাদন ও সৃজন—দু’টিই মানুষের মুক্তির শর্ত।

এই কবিতায় কবিতা শুনতে না জানার অর্থ কেবল নান্দনিক বোধহীনতা নয়; বরং তা মানবিকতা, স্বাধীনতা ও প্রতিরোধবোধ হারানোর সমার্থক। যে কবিতা শুনতে জানে না, সে ঝড়ের আর্তনাদ শুনবে, কিন্তু অর্থ বুঝবে না; সে নদীতে ভাসতে পারবে না, ইতিহাসের স্রোতে ডুবে যাবে।

শৈশব, গ্রাম ও মানুষ

১৯৩৪ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্ম নেওয়া আবু জাফর ওবায়দুল্লাহর শৈশব কেটেছে বিভিন্ন জেলা শহরে, তবে তাঁর মানস গঠনের মূল ভূমি ছিল গ্রামের বাড়ি বাহেরচর। ছুটির দিনে গ্রামে ফিরে ভাইবোন ও গ্রাম্য শিশুদের সঙ্গে নাটক, গান ও কবিতার আসর—এই সাংস্কৃতিক পরিবেশই তাঁকে মানুষের খুব কাছাকাছি নিয়ে যায়। কিশোর বয়সে লেখা চিঠিতে বর্ষাকাল, কিষাণের ভেজা শরীর আর জানালার ধারে বসে কবিত্ব করার দ্বন্দ্ব—এই পর্যবেক্ষণই ভবিষ্যতের কবিকে স্পষ্ট করে দেয়।

প্রকৃতি ও মানুষের এই যুগল উপস্থিতি তাঁর কবিতার আজীবন বৈশিষ্ট্য। তাঁর কাছে প্রকৃতি কখনো রোমান্টিক পটভূমি নয়; এটি উৎপাদনের ক্ষেত্র, সংগ্রামের মিত্র এবং মানুষের বেঁচে থাকার অবলম্বন।

ভাষা আন্দোলন থেকে স্বাধীনতা

ছাত্রজীবনেই তিনি যুক্ত হন প্রগতিশীল রাজনীতি ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সঙ্গে। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে তিনি সরাসরি রাজপথে ছিলেন। ‘মাগো, ওরা বলে’ কবিতার মাধ্যমে তাঁর কবিতার শক্তিশালী আত্মপ্রকাশ ঘটে—যা ভাষা শহীদদের প্রতি এক অনন্য শোক ও প্রতিবাদের উচ্চারণ। এই কবিতার মধ্য দিয়েই স্পষ্ট হয়ে যায়, আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ কেবল ব্যক্তিগত অনুভূতির কবি নন; তিনি ইতিহাসের কবি।
একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ তাঁর কবিতাকে দেয় পূর্ণতা ও বিস্তার। স্বাধীনতা-উত্তর উন্মাতাল সময়ে তিনি কিছুদিন নীরব ছিলেন—কবিতা থেকে দূরে সরে গিয়েছিলেন। কিন্তু সত্তরের মাঝামাঝি ফিরে এসে তিনি যা লিখলেন, তা বাংলা কবিতাকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিল। ‘আমি কিংবদন্তির কথা বলছি’ প্রকাশের পর শামসুর রহমানের মন্তব্য—“তিনি আর কোনো কবিতা না লিখলেও অবিস্মরণীয়”—এবং শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের বিস্ময়—“এমন কবিতা বাংলা ভাষায় লেখা সম্ভব, তা জানা ছিল না”—এই কবিতার ঐতিহাসিক গুরুত্বই প্রমাণ করে।

কবি ও রাষ্ট্রচিন্তক

আবু জাফর ওবায়দুল্লাহর জীবনের আরেক বিস্ময়কর দিক হলো—কবি হয়েও তিনি ছিলেন একজন সফল রাষ্ট্রপরিচালক। ইংরেজি সাহিত্যে মেধাবী ছাত্র হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা শুরু করলেও পরে পাকিস্তান সিভিল সার্ভিসে যোগ দেন। স্বাধীন বাংলাদেশের কৃষি ব্যবস্থাপনা, গবেষণা ও অবকাঠামো গড়ে তোলায় তাঁর ভূমিকা অনস্বীকার্য। খামারবাড়ী, কৃষি গবেষণা প্রতিষ্ঠান, রহমতপুর কৃষি ইনস্টিটিউট—এসব স্থাপনায় রয়েছে তাঁর দূরদর্শী পরিকল্পনার ছাপ।
কৃষি সংস্কার, ভূমি সংস্কার, খেতমজুরের ন্যূনতম মজুরি, স্থানীয় সরকারের ক্ষমতায়ন, নারী অধিকার—এসব বিষয়ে তাঁর সুপারিশ আজও প্রাসঙ্গিক। তিনি উন্নয়নকে কেবল পরিসংখ্যান নয়, মানুষের মর্যাদা ও অধিকার দিয়ে বিচার করেছেন।

কবিতার রাজনীতি ও ভালোবাসা

‘আমি কিংবদন্তির কথা বলছি’ কবিতায় যুদ্ধ আছে, সশস্ত্র অভ্যুত্থান আছে, আবার মায়ের কোলে শুয়ে গল্প শোনার আকাঙ্ক্ষাও আছে। তাঁর কাছে ভালোবাসা দুর্বলতা নয়; বরং প্রতিরোধের শক্তি। “ভালোবাসা দিলে মা মরে যায় / যুদ্ধ আসে ভালোবেসে”—এই পঙ্‌ক্তিতে যুদ্ধের নির্মম বাস্তবতা ও মানবিক বেদনা একসঙ্গে ধরা পড়ে।

তিনি বিশ্বাস করতেন—যখন মানুষ মানুষকে ভালোবাসবে, তখন প্রত্যেকে কবি হবে। এই বিশ্বাসই তাঁকে কবি থেকে মানবতাবাদী চিন্তকে উন্নীত করেছে।

নীরব প্রস্থান, অমর উপস্থিতি

জীবনের শেষ বছরটি তিনি কাটিয়েছেন বাকহারা, শয্যাশায়ী অবস্থায়। কবিতার খাতা শূন্য ছিল, কিন্তু তাঁর সৃষ্ট শূন্যতা পূরণ করার মতো কবি বাংলা সাহিত্যে খুব কমই এসেছে। পিতার কবরে তাঁর চিরনিদ্রা—এ যেন পূর্বপুরুষের কাছে ফিরে যাওয়া, যাদের কথা তিনি আজীবন বলেছিলেন।

আজও আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ বেঁচে আছেন—সন্তানহারা মায়ের চোখের জলে, কৃষকের ঘামে, সংগ্রামী মানুষের কণ্ঠে উচ্চারিত কবিতায়। তিনি কিংবদন্তি, কারণ তিনি কবিতাকে জীবনের সঙ্গে, জীবনের সংগ্রামকে ইতিহাসের সঙ্গে, আর ইতিহাসকে ভবিষ্যতের স্বপ্নের সঙ্গে যুক্ত করেছিলেন।

আমরা কি তাঁর মতো কবিতার কথা বলতে পারবো?
আমরা কি তাঁর মতো স্বাধীনতার কথা বলতে পারবো?
এই প্রশ্নই আমাদের জন্য তাঁর রেখে যাওয়া সবচেয়ে বড় উত্তরহীন উত্তর—যা ভাবতে বাধ্য করে, লড়তে শেখায়, এবং কবিতাকে আবারও জীবনের কেন্দ্রে ফিরিয়ে আনে।

কিংবদন্তির কবি আবুজাফর ওবায়দুল্লাহ খানের জীবনপঞ্জি

জন্ম : ৮ ফেরুয়ারি ১৯৩৪ বরিশাল।
পিতা : মরহুম বিচারপতি আব্দুল জব্বার খান, সাবেক বিচারপতি, পূর্ব পাকিস্তান হাইকোর্ট, সাবেক স্পীকার পাকিস্তান জাতীয় পরিষদ।
মাতা : মরহুমা সালেহা খাতুন।
শিক্ষা : ইংরেজিতে বিএ (অনার্স) ও এমএ, এসএম হল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জনপ্রশাসন ও উন্নয়ন অর্থনীতিতে ডিপ্লোমা, ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়, যুক্তরাজ্য।
সম্মাননা : ফেলো, হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়, যুক্তরাষ্ট্র,পোয়েট ইন রেসিডেন্ট, ইস্ট ওয়েট সেন্টার,হাওয়াই, যুক্তরাষ্ট্র।
পেশাগত জীবন : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগে অধ্যাপনা, পাকিস্তান সিভিল সার্ভিস (সিএসপি) এর সদস্য হিসেবে সরকারি চাকুরিতে যোগদান। মহকুমা, জেলা প্রশাসক ও বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন ও বাংলাদেশ সরকারের সচিব হিসেবে অবসর গ্রহণ।টেকনোক্রেট মন্ত্রী, রাষ্ট্রদূত। জাতিসংঘ খাদ্য ও কৃষি সংস্থার এশীয় প্যাসিফিক অঞ্চলের দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারি মহাপরিচালক। চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ সেন্টার অফ এ্যাডভান্সড স্টাডিজ।
পুরস্কার : বাংলা একাডেমী পুরস্কার, একুশে পদক ও অন্যান্য নানা সংগঠনের পুরস্কার।
প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ: সাতনরীরহার, কখনো রং কখনো সুর, কমলের চোখ, আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি, সহিষ্ণু প্রতীক্ষা, বৃষ্টি এবং সাহসী পুরুষের জন্য প্রার্থনা, আমার সময়, আমার সকল কথা, খাঁচার ভিতর অচিন পাখি।
অন্যান্য গ্রন্থ : ইয়েলো স্যান্ড ডিউন-চায়না থ্রু চায়নীজ আইজ।
রুরাল ডেভলপমেন্ট: প্রবলেমস এ্যান্ড প্রসপেক্টাস, ক্রিয়েটিভ ডেভলপমেন্ট, ফুড এ্যান্ড ফেইথ, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদপত্র ও ম্যাগাজিনে অসংখ্য লেখা।

কিংবদন্তির কবি আবুজাফর ওবায়দুল্লাহ খানের মৃত্যু বার্ষিকীতে তাঁকে উৎসর্গ করে লেখা কবিতা —

কিংবদন্তির কবি
— সৈয়দ আমিরুজ্জামান

বরিশালের ভোরে জন্মেছিল এক দীর্ঘ স্বর,
আট ফেব্রুয়ারির সূর্য উঠেছিল মৃদু গরজে—
নদীর মতো শান্ত, অথচ গভীরে বজ্রধ্বনি,
শিশিরভেজা বাংলার বুকে নাম লিখে দেয় যে।

বাহেরচরের উঠানে ভাইবোন আর গ্রাম্য সুর,
নাটকের সংলাপ, কবিতার প্রথম ডাক—
কাক ভেজে, কিষাণ ভিজে, ভিজে মানুষের শ্রম,
সেই দৃশ্যেই জন্ম নেয় কবির প্রথম চোখ।

বর্ষা তখন কেবল ঋতু নয়—
বর্ষা মানে অভিমান, বর্ষা মানে কান্না,
আষাঢ়ের কালো মেঘ জানালায় মুখ রাখে,
আর মানুষের বুকেও ওঠে হু হু শব্দ।

সতেরো বছর বয়সে যে চিঠিতে লেখা ছিল
মাটির গন্ধ আর ভেজা ফসলের ভাষ্য,
সেই চিঠিই হয়ে উঠেছিল ভবিষ্যৎ কাব্য,
মানুষ আর প্রকৃতির অখণ্ড শপথ।

কিশোর কবি জানত—
কবিতা শুধু জানালার ধারে বসে লেখা নয়,
কবিতা ভিজে-জুপসে ক্ষেতে নামা মানুষের নাম,
কবিতা ঘামের লবণ, চোখের জল, নীরবতা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উঠানে তখন প্রগতির ঢেউ,
বাম দিক থেকে আসে মানুষের ডাক—
রাজনীতি নয়, সংস্কৃতিই ছিল তার অস্ত্র,
ভাষার ভেতরেই সে গড়ে তোলে প্রতিবাদ।

বায়ান্ন এলো—
দশজন করে মিছিল, বুক পেতে আইন ভাঙা,
একশ চুয়াল্লিশ ধারা ছিন্ন করে বাংলার কণ্ঠ,
ট্রাকের পেছনে তুলে নিয়ে যাওয়া স্বপ্ন।

সেই রক্তে লেখা হলো—
“মাগো, ওরা বলে”—
একটি কবিতায় জন্ম নিলো এক ইতিহাস,
ভাষা শহীদের বুকের ভেতর জ্বলে উঠল কণ্ঠ।

সেদিনই জানলো বাংলা—
একজন কবি এসেছে, স্পর্ধিত, অনমনীয়,
যার শব্দে মাটি আছে, আগুন আছে,
আর আছে মায়ের ডাকের চিরন্তন কম্পন।

একাত্তর এলো—
কবির শব্দে তখন স্বাধীনতার শস্য,
যুদ্ধের ধুলো পেরিয়ে উঠে আসে কবিতা,
মানচিত্রের ভেতর জেগে ওঠে মানুষের মুখ।

স্বাধীনতার পর উন্মাতাল সময় থেমে গেলে,
কবি ফেরে নিজের গভীরতায়—
কিছু অভিমান, কিছু প্রাত্যহিক দায়,
কবিতার খাতা কিছুদিন নীরব থাকে।

কিন্তু নীরবতা তার কাছে ছিল না পরাজয়,
সত্তরের মাঝামাঝি ফের যখন ফিরে এলেন,
সবকিছু ভাসিয়ে নিলো এক মহাকাব্যিক স্বর—
“আমি কিংবদন্তির কথা বলছি।”

শামসুর বললেন—
আর কিছু না লিখলেও এই কবিতা যথেষ্ট,
শক্তি চট্টোপাধ্যায় বিস্ময়ে উচ্চারণ করলেন—
এমন কবিতা বাংলা ভাষা জানত না।

কবি তখন শুধু কবি নন—
তিনি প্রশাসক, রাষ্ট্রের কারিগর,
খামারবাড়ী থেকে রহমতপুর পর্যন্ত
তার স্বাক্ষরে দাঁড়িয়ে থাকে কৃষির ভবিষ্যৎ।

কৃষক তার কাছে সংখ্যা নয়, মানুষ,
খেতমজুর তার কাছে পরিসংখ্যান নয়, প্রাণ—
ন্যূনতম মজুরি, কাজের নিশ্চয়তা,
ভূমি সংস্কারের স্বপ্ন তার লেখায় জ্বলজ্বল।

গ্রাম মানে তার কাছে ক্ষমতার কেন্দ্র,
স্বশাসিত স্থানীয় সরকার মানে মুক্ত মানুষ,
নারীর অধিকার মানে কেবল স্লোগান নয়,
বাস্তব কাজে বদলে দেওয়া সমাজ।

দেশ-বিদেশের সভা, জাতিসংঘের মঞ্চ,
কৃষি ও খাদ্যের বৈশ্বিক দরবার—
সবখানেই তিনি বহন করেছেন বাংলার মাটি,
ধানের গন্ধ, মানুষের নীরব আকুতি।

শেষ বয়সে প্রকৃতি ডেকেছে তাকে ফের,
পরিবেশের ক্ষত, পৃথিবীর ব্যথা লিখেছেন তিনি,
তার কলমে ধরা পড়েছে মানবসমাজের দায়,
ভালবাসার গভীরতম স্বীকারোক্তি।

কিন্তু হায়—
কাজ ফুরানোর আগেই ডেকে নেয় নিঃশব্দ রাত,
এক বছর বাকহারা, নিশ্চল শয্যায় শুয়ে,
পৃথিবীর রূপ আর পৌঁছায় না তার কাছে।

কবিতার খাতা শূন্য থাকে—
এই শূন্যতা তার নয়, আমাদের ক্ষতি,
বাংলা কবিতার আকাশে নেমে আসে
এক দীর্ঘ, ভারী, নীরব মেঘ।

পিতার কবরের বক্ষেই শুয়ে পড়েন তিনি,
স্বেচ্ছা নির্বাসনের মতো এক গভীর বিদায়,
কিন্তু মৃত্যু কি পারে থামাতে কিংবদন্তি?
কবিতা কি কখনো কবর মানে?

তিনি বেঁচে আছেন—
সন্তানহারা মায়ের শিশিরভেজা চোখে,
সহিষ্ণু প্রতীক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকা সাহসী পুরুষে,
কিংবদন্তির কথামালার প্রতিটি উচ্চারণে।

যতদিন বাংলায় মানুষ থাকবে,
মাটি থাকবে, বর্ষা থাকবে,
ততদিন আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
একটি জীবন্ত নাম, একটি জ্বলন্ত ভাষা।

কবিতা তখন কেবল কবিতা নয়—
কবিতা হয়ে ওঠে ইতিহাস, মানুষ, দেশ,
আর আমরা বারবার বলি, নির্ভয়ে বলি—
আমরাও কিংবদন্তির কথাই বলছি।


সৈয়দ আমিরুজ্জামান
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গবেষক, সাংবাদিক ও কলামিস্ট;
বিশেষ প্রতিনিধি, ইংরেজি দৈনিক দ্য ফিনান্সিয়াল পোস্ট ও সাপ্তাহিক নতুনকথা;
সম্পাদক, আরপি নিউজ;
কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য, জাতীয় কৃষক সমিতি;
‘৯০-এর মহান গণঅভ্যুত্থানের সংগঠক ও সাবেক কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য, বাংলাদেশ ছাত্রমৈত্রী।
সাবেক কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য, বাংলাদেশ খেতমজুর ইউনিয়ন।
সাধারণ সম্পাদক, মাগুরছড়ার গ্যাস সম্পদ ও পরিবেশ ধ্বংসের ক্ষতিপূরণ আদায় জাতীয় কমিটি।
প্রাক্তন সভাপতি, বাংলাদেশ আইন ছাত্র ফেডারেশন।
E-mail : syedzaman.62@gmail.com

ShareTweetPin

সর্বশেষ সংবাদ

  • কুমিল্লা-৫ ধানের শীষের প্রার্থীকে শুভেচ্ছা জানান যুবদল নেতা মোঃ শরীফুল ইসলাম
  • কালিহাতীতে স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুল হালিমের সাংবাদিক বৈঠক
  • ত্যাগী নেতার পক্ষে ভোটের আবেদন জানালেন শহীদের ভাই
  • শিক্ষা জগতে সুখবর, এমপিওভুক্তদের খুশির হাওয়া
  • যদি কেউ ভোট কেন্দ্র দখল করতে আসে, তাহলে বাড়ি ফিরে যেতে পারবে না: হাসনাত আব্দুল্লাহ

প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুর ইসলাম (রাশেদ মানিক)
নির্বাহী সম্পাদক: মুহাম্মদ আসাদুল্লাহ

বাংলা এফ এম , বাসা-১৬৪/১, রাস্তা-৩, মোহাম্মদিয়া হাউজিং লিমিটেড, মোহাম্মদপুর, ঢাকা, বাংলাদেশ

ফোন:  +৮৮ ০১৯১৩-৪০৯৬১৬
ইমেইল: banglafm@bangla.fm

  • Disclaimer
  • Privacy
  • Advertisement
  • Contact us

© ২০২৬ বাংলা এফ এম

Welcome Back!

Login to your account below

Forgotten Password?

Retrieve your password

Please enter your username or email address to reset your password.

Log In

Add New Playlist

No Result
View All Result
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • বিশ্ব
  • সারাদেশ
  • বিনোদন
  • খেলাধুলা
  • প্রবাস
  • ভিডিও
  • কলাম
  • অর্থনীতি
  • লাইফস্টাইল
  • ক্যাম্পাস
  • আইন ও আদালত
  • চাকুরি
  • অপরাধ
  • বিজ্ঞান প্রযুক্তি
  • ফটোগ্যালারি
  • ফিচার
  • মতামত
  • শিল্প-সাহিত্য
  • সম্পাদকীয়

© ২০২৬ বাংলা এফ এম