চুয়াডাঙ্গার জীবননগরের হাসাদহ বাজারে এক অপ্রত্যাশিত রাত্রি সংঘর্ষের ঘটনায় পুরো উপজেলা স্তব্ধ হয়ে পড়েছিল। গত ১৩ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের পরের দিন, স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা মেহেদী হাসানকে মারধরের ঘটনায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছিল। সেই উত্তেজনার ছায়া রাতের অন্ধকারে আরও প্রকট হয়ে উঠে।
বাঁকা ইউনিয়নের জামায়াত নেতা মফিজুর রহমানের ভাই, জীবননগর শহরের ঢাকা জুয়েলার্সের মালিক হাফিজুর রহমান (৪৫) তখন বাজারে উপস্থিত ছিলেন। খবর আসে, তাঁর ভাতিজা মাহফুজুর রহমানকে মেহেদী হাসান ও তাঁর অনুসারীরা বাজারে যাওয়ার পথে মারধর করেছেন। এই খবর শুনে মফিজুর রহমান ও হাফিজুর রহমান লোকজন নিয়ে বাজারে পৌঁছান।
প্রথমে কেবল কথার লড়াই—তর্ক-বিতর্ক—হল। কিন্তু মুহূর্তের মধ্যে উত্তেজনা রূপ নিল শারীরিক সংঘর্ষে। উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্র হাতে নিলেন। ছয়জন আহত হন, তাদের মধ্যে ছিলেন মফিজুর রহমান, হাফিজুর রহমান, মাহফুজুর রহমান, খায়রুল ইসলাম এবং মেহেদী হাসান ও তাঁর বাবা জসিম উদ্দিন। আহতদের জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
আঘাত গুরুতর হওয়ায় আহত জামায়াত নেতা মফিজুর ও তাঁর ভাই হাফিজুরকে যশোরের ৫০০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। রাতেই ঢাকার উদ্দেশে রওনা হলে, দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে হাফিজুর রহমান মারা যান। মফিজুর রহমান বর্তমানে ঢাকার একটি হাসপাতালে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন।
এই ঘটনায় পুরো এলাকায় চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশের দামুড়হুদা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. আনোয়ারুল কবীর জানান, সন্দেহভাজন দুজনকে আটক করা হয়েছে, তথ্য যাচাই-বাছাই শেষে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নিহত হাফিজুরের মরদেহ রোববার চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে আনা হয়। জেলা জামায়াতের দপ্তর সম্পাদক মফিজুর রহমান জোয়ার্দ্দার জানিয়েছেন, ময়নাতদন্ত শেষে স্থানীয়ভাবে লাশ দাফন করা হবে।
জীবননগরের এই ঘটনা শুধু এক ব্যক্তির মৃত্যু নয়; এটি সেই উত্তেজনার প্রমাণ, যা রাজনৈতিক সংঘর্ষ কখনো কখনো ব্যক্তিগত ক্ষোভের সঙ্গে মিশে ভয়াবহ রূপ ধারণ করতে পারে।

