সিঙ্গাপুরের জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদির ব্রেন সক্রিয় করার জন্য অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন রয়েছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। তবে অস্ত্রোপচারের আগে তার শারীরিক অবস্থা সম্পূর্ণভাবে স্থিতিশীল হওয়া জরুরি বলে জানানো হয়েছে।
বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) ইনকিলাব মঞ্চের ফেসবুক পেইজে দেওয়া এক পোস্টে হাদির সর্বশেষ শারীরিক অবস্থার তথ্য জানানো হয়। সেখানে বলা হয়, শরিফ ওসমান হাদির শারীরিক অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল পর্যায়ে আনার চেষ্টা চলছে। অপারেশনের জন্য প্রস্তুত করতে হলে প্রথমেই শরীরকে সম্পূর্ণভাবে স্থিতিশীল করা প্রয়োজন। চিকিৎসা সিঙ্গাপুর অথবা ইংল্যান্ড—যেকোনো এক স্থানে হতে পারে।
ফেসবুক পোস্টে আরও বলা হয়, হাদির ক্ষেত্রে মূল চ্যালেঞ্জ হলো শরীর ও ব্রেনের মধ্যে সংযোগ পুনঃস্থাপন করা। ব্রেন ছাড়া তার শরীরের অন্যান্য অঙ্গ সক্রিয় রয়েছে। ব্রেন সক্রিয় করার জন্য অস্ত্রোপচার অপরিহার্য। এ অবস্থায় হাদির পরিবারের পক্ষ থেকে দেশবাসীর কাছে বিশেষ দোয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। পোস্টে বলা হয়, ‘আল্লাহ যেন তাকে হায়াতে তাইয়িবা নসিব করেন।’
এর আগে মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) দুপুরে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসকদের বরাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের নিউরোসার্জন ও হাদির চিকিৎসায় যুক্ত ডা. আব্দুল আহাদ জানান, হাদির শারীরিক অবস্থা এখনও সংকটাপন্ন এবং অপরিবর্তিত রয়েছে। চিকিৎসকদের ভাষায়, তিনি এখনো জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছেন।
ডা. আব্দুল আহাদ জানান, সিঙ্গাপুরের নিউরোসার্জনদের সর্বশেষ মূল্যায়ন অনুযায়ী হাদির ব্রেনে ইস্কেমিক পরিবর্তন ও ফোলা (ইডেমা) এখনও কমেনি। এ কারণে চিকিৎসার ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট ‘টাইম উইন্ডো’কে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এই সময়ের মধ্যেই পরবর্তী চিকিৎসা সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
তিনি আরও জানান, জুলাই অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর ঢাকায় একাধিক অস্ত্রোপচার ও নিবিড় চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য শরিফ ওসমান হাদিকে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়। সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালের ইমার্জেন্সি কমপ্লেক্সে ভর্তি হওয়ার পর থেকেই নিউরোসার্জারি ও ক্রিটিক্যাল কেয়ার টিম যৌথভাবে তার চিকিৎসা শুরু করে।
হাসপাতালে ভর্তির পর করা ব্রেনের সিটি স্ক্যানে দেখা যায়, হাদির বাম পাশের ইস্কেমিক পরিবর্তন এখনও অপরিবর্তিত রয়েছে। পাশাপাশি ব্রেনে ফোলা বা ইডেমা বিদ্যমান রয়েছে। ব্রেন স্টেমে আঘাতের কারণে মস্তিষ্কের ভেন্ট্রিকুলার সিস্টেমে চাপ তৈরি হয়েছে, যা চিকিৎসকদের জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে।
চিকিৎসকদের বরাতে ডা. আব্দুল আহাদ জানান, বর্তমানে হাদির কিডনি, হৃদযন্ত্র ও ফুসফুস কৃত্রিম ভেন্টিলেশনের সহায়তায় সচল রাখা হয়েছে। তার গ্লাসগো কোমা স্কেল (জিসিএস) স্কোরে এখনো কোনো পরিবর্তন আসেনি। অর্থাৎ নিউরোলজিক্যাল রেসপন্সে দৃশ্যমান কোনো উন্নতি বা অবনতি—কোনোটিই লক্ষ্য করা যাচ্ছে না।
উল্লেখ্য, সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে শরিফ ওসমান হাদিকে বহনকারী এয়ার অ্যাম্বুলেন্সটি সিঙ্গাপুর বিমানবন্দরে অবতরণ করে। অবতরণের প্রায় এক ঘণ্টার মধ্যে তাকে নিরাপদে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং সেখানেই তার উন্নত চিকিৎসা শুরু হয়।

