শাহজাহান আলী মনন, নীলফামারী জেলা প্রতিনিধি:
নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলায় গ্রাম পুলিশ নিয়োগে অনিয়ম করার অভিযোগ উঠেছে সদ্য বদলী হয়ে যাওয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসারের বিরুদ্ধে। তিনি অর্থের বিনিময়ে অনুত্তীর্ণ প্রার্থীকে উপজেলার চাঁদখানা ইউনিয়নে নিয়োগ দিয়েছেন। নিয়োগের মৌখিক ও শারীরিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েও নিয়োগ বঞ্চিত একজন রবিবার (৫ এপ্রিল) বিকালে কিশোরগঞ্জ প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে এই অভিযোগ তুলেছেন।
কিশোরগঞ্জ উপজেলার চাঁদখানা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের মো. সহিদুল ইসলামের ছেলে মো. আব্দুল হালিম এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন। তিনি তার লিখিত অভিযোগে বলেন, গত ২ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে কিশোরগঞ্জ উপজেলা নিবার্হী অফিসার প্রিতম সাহা একটি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি আহবান করেন।
এই বিজ্ঞপ্তির প্রেক্ষিতে আমি আবেদন করে শারীরিক ফিটনেস ও মৌখিক পরীক্ষার ফলাফলে উত্তীর্ণ হই। নিয়োগ কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নিবার্হী অফিসার তানজিমা আঞ্জুম সোহানিয়া গত ৩ ফেব্রয়ারী ২০২৬ তারিখে তার স্বাক্ষরিত ফলাফলে আমাকে মনোনিত করেন। পরে নিয়োগপত্রের জন্য যোগাযোগ করলে উপজেলা পরিষদের ফুয়াদ ও ইউএনও অফিসের মুকুল হোসেন আমার কাছে ৪ লক্ষ টাকা দাবী করে।
তাদের দাবীকৃত টাকা দিতে না পারায় পরবর্তীতে শারীরিক ফিটনেস পরীক্ষায় অযোগ্য ব্যক্তি মজিদুল ইসলাম নামে একজনকে ইউএনও গোপনে নিয়োগ দিয়েছে বলে জানতে পেরেছি। এ বিষয়ে ইউএনও তানজিমা আঞ্জুম সোহানিয়ার কাছে আমি জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার আবেদনে ক্রটি থাকায় আমাকে চাকুরী দেয়া সম্ভব হচ্ছে না।
যাকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে সে তো শারীরিক যোগ্যতায় পাস করেনি, তাহলে তার কিভাবে চাকুরী হয় বললে তখন তিনি বলেন, এটি আমাদের বিষয়। নিয়োগকৃত ব্যক্তির তথ্য চাইলে আমাকে তথ্য দেয়া হয়নি। এ বিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যানকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি আমাকে বলেন, এ বিষয়ে কিছু জানেন না। কাকে নিয়োগ দিয়েছে, কিভাবে কোন প্রক্রিয়ায় নিয়োগ দিয়েছে তা আমার জানা নেই।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী আরও বলেন, আমার মামা খালু না থাকায় চূড়ান্ত মনোনিত হয়েও আমাকে চাকুরী দেয়া হয়নি। আমি বিষয়টি আপনাদের মাধ্যমে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের আশু দৃষ্টি কামনাসহ সুষ্ঠ তদন্ত পূর্বক আমাকে চাকুরীতে নিয়োগ প্রদান ও ওই ইউএনও’র বিচারের দাবী জানাচ্ছি।
চাঁদখানা ইউপি চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান যাদু জানান, আব্দুল হালিম নামে একজন শারীরিক ফিটনেস ও মৌখিক পরীক্ষায় চূড়ান্তভাবে মনোনিত হয়েছেন। তিনি নিয়োগপত্রের আশায় ছিলেন, এতকুটুই আমার জানা আছে। কাউকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে কিনা আমার জানা নেই। কেউ যোগদান করতেও আসেনি।
এ ব্যাপারে সম্প্রতি বদলী হয়ে যাওয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার তানজিমা আঞ্জুম সোহানিয়ার ফোনে একাধিকবার ফোন দেয়া হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি। কিশোরগঞ্জ উপজেলায় যোগদানের মাত্র ৪ মাসের মধ্যে বদলী হয়ে যাওয়ার প্রাক্কালে ইউএনও কর্তৃক এমন অনিয়মের ঘটনা ঘটিয়ে যাওয়ার খবরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

