সত্যজিৎ দাস, (মৌলভীবাজার প্রতিনিধি):
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে ৫০ শয্যা বিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্টাফ কোয়ার্টারের একটি বাসা থেকে একটি কালনাগিনী সাপ উদ্ধার করা হয়েছে।
সোমবার (৬ এপ্রিল ২০২৬) রাত প্রায় ৮টার দিকে স্টাফ কোয়ার্টারে বসবাসকারী শ্রাবণ পালের বাসার ভেন্টিলেটরের মধ্যে একটি সাপ দেখতে পেয়ে পরিবারের সদস্যরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। পরে তারা দ্রুত বাসা থেকে বের হয়ে যান।
ঘটনার খবর পেয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সিনথিয়া তাসমিন বিষয়টি বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান সীতেশ রঞ্জন দেবকে মুঠোফোনে জানান। খবর পেয়ে ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল এবং পরিবেশকর্মী রাজদীপ দেব দীপ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান।
তারা গিয়ে দেখতে পান ঘরের ভেন্টিলেটরের ভেতরে একটি কালনাগিনী সাপ অবস্থান করছে। পরে প্রায় আধা ঘণ্টা চেষ্টার পর সাপটিকে কোনো ক্ষতি ছাড়াই নিরাপদে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার শেষে সাপটি শ্রীমঙ্গল বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল জানান, কালনাগিনী বা Ornate Flying Snake দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় পাওয়া যায়। এর বৈজ্ঞানিক নাম Chrysopelea ornata। সাধারণত এ সাপের দৈর্ঘ্য ২ থেকে সাড়ে ৪ ফুট পর্যন্ত হয়। সবুজ রঙের শরীরে কালো ও লাল বা কমলা ডোরাকাটা দাগ থাকে। এরা বৃক্ষবাসী এবং অত্যন্ত লাজুক স্বভাবের। এদের বিষ খুবই মৃদু হওয়ায় মানুষের জন্য তেমন ক্ষতিকর নয়।
তিনি আরও বলেন,এ ধরনের সাপ দেখলে আতঙ্কিত না হয়ে বা সাপকে আঘাত না করে দ্রুত সংশ্লিষ্ট উদ্ধারকারী দলের সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত।
পরিবেশকর্মী রাজদীপ দেব দীপ জানান, কালনাগিনী মৃদু বিষধর সাপ এবং ‘অপিসথোগ্লাইফাস’ প্রজাতির অন্তর্ভুক্ত,অর্থাৎ এদের বিষদাঁত মুখের পেছনের দিকে থাকে। এদের বিষ মানুষের স্নায়ুতন্ত্রে কোনো গুরুতর প্রভাব ফেলে না। সাধারণত গাছের ডালে বাস করে এবং ভয় পেলে দ্রুত পালিয়ে যায়। এক গাছ থেকে অন্য গাছে ঝাঁপ দিয়ে বা কিছুটা ভেসে চলতে পারে বলে এদের ‘ওড়ন্ত সাপ’ বা Flying Snake বলা হয়। এরা মূলত ছোট পাখি, ব্যাঙ,টিকটিকি ও বাদুড় খেয়ে বেঁচে থাকে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সিনথিয়া তাসমিন বলেন,জীবনে প্রথমবারের মতো কালনাগিনী সাপ দেখেছি। হঠাৎ দেখে কিছুটা ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। পরে শ্রদ্ধেয় সীতেশ রঞ্জন দেব’কে মুঠোফোনে জানালে বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের সদস্যরা এসে ভেন্টিলেটর থেকে সাপটি উদ্ধার করেন। এজন্য আমি তাদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই।

