কালাই , জয়পুরহাট প্রতিনিধি
হঠাৎ সকালের প্রায় এক ঘণ্টার ভারি বৃষ্টিতে উপজেলার বিস্তীর্ণ ফসলি জমি পানির নিচে তলিয়ে গেছে। বিশেষ করে আলু উত্তোলনের শেষ সময়ে জমে থাকা পানিতে ডুবে গেছে আলু, গমসহ বিভিন্ন ফসলের ক্ষেত। এতে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।
বৃহস্পতিবার সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন মাঠ ঘুরে দেখা যায়, অনেক জমিতে বৃষ্টির পানি জমে আছে। উঁচু এলাকা থেকে নেমে আসা পানি নিচু জমিতে জমে থাকায় জমিতে রাখা আলু পানির নিচে তলিয়ে গেছে। ফলে অনেক কৃষক সম্ভাব্য ক্ষতির আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা সকাল থেকেই শ্যালোমেশিন বসিয়ে জমে থাকা পানি সেচ দিয়ে নামানোর চেষ্টা করছেন। তবে দ্রুত পানি না নামলে আলুসহ অন্যান্য ফসলে পচন ধরার আশঙ্কা করছেন তারা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে যেসব প্রাকৃতিক পথ দিয়ে পানি চলাচল করত সেগুলো ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই জমিতে পানি আটকে যাচ্ছে।
আঁওড়া গ্রাম-এর কৃষক লাবু মিয়া বলেন, “এই মাঠে দুই বিঘা জমিতে আলু চাষ করেছি। আলু তুলে শুকানোর জন্য জমিতেই রেখেছিলাম। আজ সেগুলো বস্তা করে হিমাগারে পাঠানোর কথা ছিল। কিন্তু সকালের বৃষ্টিতে সব আলু পানির নিচে চলে গেছে। এখন পানি সরালেও আলুগুলোতে পচন ধরার আশঙ্কা আছে।”
হাতিয়র গ্রাম-এর কৃষক মাসুদ রানা বলেন, “কিস্তি তুলে আলু লাগিয়েছিলাম। বাজারে আলুর দাম এমনিতেই কম। তাই হিমাগারে রাখার জন্য মাঠে রেখে দিয়েছিলাম। কিন্তু আজকের বৃষ্টিতে সব আলু পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এখন কিস্তি শোধ করব কীভাবে বুঝতে পারছি না।”
একই গ্রামের আরিফুল ইসলাম বলেন, গত বছর আলুতে লোকসান হয়েছিল। সেই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে এবার আবার আলু চাষ করেছেন। বাজারে দাম কম থাকায় হিমাগারে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। কিন্তু হঠাৎ বৃষ্টিতে সেই পরিকল্পনা ভেস্তে গেছে।
এদিকে উদয়পুর ইউনিয়ন-এর গ্রামতলা গ্রামের কৃষক ইসলাম বলেন, “জমি থেকে আলু তোলা শুরু করেছি। আলুগুলো রোদে শুকানোর জন্য জমিতে ফেলে রেখেছিলাম। কিন্তু রাতের বৃষ্টিতে সব স্বপ্ন যেন ভেসে গেল। সরকার যদি এমন সময়ে কৃষকদের পাশে না দাঁড়ায়, তাহলে ভবিষ্যতে অনেকেই ফসল উৎপাদন থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হবে।”
এ বিষয়ে কালাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হারুনুর রশিদ বলেন, বৃষ্টির কারণে উপজেলার কিছু মাঠে ফসলের জমিতে পানি জমেছে। তবে দ্রুত পানি নিষ্কাশন করা গেলে ক্ষতির পরিমাণ খুব বেশি হবে না বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
স্থানীয় কৃষকদের দাবি, পানি চলাচলের প্রাকৃতিক পথগুলো দ্রুত সংস্কার করা না হলে ভবিষ্যতে সামান্য বৃষ্টিতেই কৃষকদের বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।

