শাহজাহান আলী মনন, নীলফামারী জেলা প্রতিনিধি:
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে নীলফামারী-৪ (সৈয়দপুর-কিশোরগঞ্জ) আসনে জাতীয় পার্টি মনোনীত এমপি প্রার্থী সিদ্দিকুল আলমের বিরুদ্ধে। এর আগেও আচরণবিধি ভঙ্গের দায়ে তাকে প্রাথমিকভাবে সতর্ক করেছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার তানজিমা আঞ্জুম সোহানিয়া।
সেই সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে সোমবার (১২ জানুয়ারি) বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে কিশোরগঞ্জ উপজেলার মাগুড়া ইউনিয়নে পথসভা ও গণসংযোগে অংশ নেন তিনি। এসময় তিনি প্রায় শতাধিক নেতাকর্মী নিয়ে মাগুড়া চেকপোস্ট, বাসস্ট্যান্ডসহ ইউনিয়নের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পথসভা করেন। গণসংযোগকালে নেতাকর্মীরা ‘লাঙ্গল, লাঙ্গল’ স্লোগান দিতে থাকেন এবং ইউনিয়নের বিভিন্ন পয়েন্ট প্রদক্ষিণ করেন। পাশাপাশি দোকান থেকে দোকানে গিয়ে লাঙ্গল প্রতীকে ভোট প্রার্থনা করা হয়। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
নির্বাচনী আচরণবিধি অনুযায়ী, ভোট গ্রহণের কমপক্ষে তিন সপ্তাহ আগে কোনো প্রার্থী প্রকাশ্য সভা, মিছিল, স্লোগান কিংবা প্রচারণামূলক গণসংযোগ পরিচালনা করতে পারেন না। অথচ তফসিল ঘোষণার পর জাতীয় পার্টির এই প্রার্থী পরপর দ্বিতীয়বারের মতো আচরণবিধি ভঙ্গ করলেও তার বিরুদ্ধে এখনো কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। প্রশাসনের নিরব ভূমিকা নিয়ে সচেতন মহলে শুরু হয়েছে কড়া সমালোচনা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে এমপি প্রার্থী সিদ্দিকুল আলম বলেন, আনুষ্ঠানিক কোন নির্বাচনী কর্মসূচি করা হয়নি। ওই এলাকায় গেলে উৎসাহী লোকজন এগিয়ে এসে কুশল বিনিময় করেছেন। এমনতো সব প্রার্থীরই ক্ষেত্রে হচ্ছে। শুধু আমাকে টার্গেট করে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। এটা প্রতিহিংসার বহিঃপ্রকাশ। জনগণই এর জবাব দিবে।
সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানজিমা আঞ্জুম সোহানিয়া বলেন, বিষয়টি আমার নজরে এসেছে। নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনায় তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নির্বাচন কমিশনের কাছে চিঠি পাঠানো হবে।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান বলেন, নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গ হলে অবশ্যই তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
